নীলফামারীর ডিমলায় স্কুলের ভেতরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল আমিনকে ছুরিকাঘাত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন স্কুলকলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ।
রোববার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার বিজয় চত্বরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে বিক্ষোভকারীরা শুরুতেই বিজয় চত্বরে একত্রিত হয়ে আল-আমিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে ‘রোড টু মার্চ’ কর্মসূচিতে মিছিল নিয়ে ডিমলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলটি স্মৃতি অম্লান চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ চলে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- ছুরিকাঘাতকারী নাসিমকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা; তাকে পালাতে সহায়তা করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা; ডিমলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার করা; স্কুল–কলেজে বহিরাগত প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ করা এবং আহত আল-আমিনের চিকিৎসার পূর্ণ ব্যয়ভার রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করা।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হামলার পরপরই তারা অভিযুক্ত ছাত্র নাসিমকে আটক করেছিল। কিন্তু কিছু সময় পর বহিরাগত একদল ব্যক্তি এসে জোর করে তাকে নিয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে, বিক্ষোভ চলার সময় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে যান ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান এবং ডোমার–ডিমলা সার্কেলের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসপি) নিয়াজ মেহেদী। এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনায় বসেন তারা। পরে আল-আমিনের চিকিৎসার পূর্ণ ব্যয়ভার উপজেলা প্রশাসন বহন করবে বলে ঘোষণা দেন ইউএনও।
আহত আল-আমিন বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।
আহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পরপরই সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত বুধবার দুপুরে ডিমলা জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে তৃতীয় তলার একটি কক্ষে বসা নিয়ে দ্বন্দ্বে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিমের সঙ্গে আল-আমিনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাসিম পকেট থেকে ছুরি বের করে আল-আমিনের পেটে ঢুকিয়ে দেয়। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় সে সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেয়।


