ব্রিটিশ রাজপরিবারের উপাধি ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। ‘যৌন নির্যাতক’ জেফ্রি অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কে রাজপরিবারের উপর চাপ বাড়তে থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেন ব্রিটিশ প্রিন্স।
‘ডিউক অব ইয়র্ক’ উপাধি এবং ব্রিটেনের প্রাচীনতম ও মর্যাদাপূর্ণ ‘অর্ডার অব দ্য গার্টার’ উপাধি ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আমি আগেও অস্বীকার করেছি, এখনও জোরালোভাবে করছি। রাজা চার্লস তৃতীয়, প্রিন্স উইলিয়াম, ঘনিষ্ঠজন ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পরই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। এসব অভিযোগ রাজা এবং রাজপরিবারের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। রাজপরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থেকে আমি রাজকীয় উপাধি ও সম্মান ত্যাগ করছি।’
পাঁচ বছর আগেই রাজপরিবারের প্রকাশ্য দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন উল্লেখ করে অ্যান্ড্রু জানান, এখন রাজার সম্মতিতে রাজপরিবার থেকে আরও এক ধাপ সরে যাচ্ছেন তিনি।
রাজপরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রিন্স অ্যান্ড্রু আর ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ হিসেবে পরিচিত হবেন না, তবে তার প্রিন্স উপাধি বজায় থাকবে। এরইমধ্যে সক্রিয় রাজদায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ায় ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস(এইচআরএইচ)’ উপাধিও ব্যবহার করছেন না প্রিন্স অ্যান্ড্রু।
ফলে তার প্রাক্তন স্ত্রী সারাহ ফার্গুসনও আর ‘ডাচেস অব ইয়র্ক’ থাকবেন না। তবে তাদের দুই মেয়ে প্রিন্সেস বেইট্রিস এবং প্রিন্সেস ইউজিন নিজেদের রাজকীয় উপাধি ধরে রাখবেন। যদিও রাজপরিবারের কাছ থেকে ২০৭৮ সাল পর্যন্ত লিজ নেওয়া ‘রয়্যাল লজ’ বাসভবনেই থাকবেন তিনি।
আলোচিত মার্কিন বিনিয়োগকারী জেফ্রি অ্যাপস্টেইন একজন প্রমাণিত শিশু যৌন নিপীড়ক। ২০১৯ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রিন্স অ্যান্ড্রু দাবি করেছিলেন, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে তিনি জেফ্রি অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তবে ২০১১ সালে ফাঁস হওয়া কিছু ইমেইলে দেখা যায়, তারা তখনও একে অপরের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছিলেন।
এই যৌন অপরাধীর সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ভার্জিনিয়া জিউফ্রের দাবির পর। তিনি দাবি করেন, ২০০১ সালে ১৭ বছর বয়সে লন্ডনে গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের বাড়িতে তাকে যৌন নিপীড়ন করেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। এছাড়া নিউ ইয়র্কের একটি টাউনহাউজ এবং জেফ্রি অ্যাপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপেও তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু।
২০২২ সালে এই মামলায় আর্থিক মীমাংসা হলেও প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ২০২৫ সালে ভার্জিনিয়া জিউফ্রে আত্মহত্যা করলে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকেই আত্মহত্যার প্ররোচক হিসেবে দায়ী করেন জিউফ্রের ভাই স্কাই রবার্টস।
এদিকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু সব রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করায় স্বস্তি প্রকাশ করেন রবার্টস। তিনি বলেন, ‘আমার বোন গর্বিত হতেন। যে সংগ্রাম ভার্জিনিয়া শুরু করেছিল, সেটি এখন কিছুটা হলেও ন্যায়বিচারের দিকে এগোচ্ছে।’


