৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার পদের বিপরীতে এবার চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৩২০ জন। ফলে ২১৬৭টি ক্যাডার পদ ফাঁকা থেকে যাচ্ছে।
তবে নন-ক্যাডারের পদের জন্য ২০১ জনকে সুপারিশ করেছে পিএসসি। সেই হিসেবে ৪৭তম বিসিএসে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে মোট ১ হাজার ৫২১ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।
এই বিসিএস পরীক্ষায় ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে পদ ছিল ৩ হাজার ৬৮৮টি। এর মধ্যে ক্যাডার পদে ৩ হাজার ৪৮৭ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ২০১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল।
লিখিত পরীক্ষায় ৩ হাজার ৬৩১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্য থেকে মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১ হাজার ৫২১ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।
পিএসসি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী না থাকায় ২ হাজার ৩৪৩ পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর প্রকাশ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা নেওয়ার মাত্র ৯ দিন পরই ফল প্রকাশ করে রেকর্ড গড়ে পিএসসি। একই বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এই বছরের ৭ এপ্রিল ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর মে মাস থেকে নেওয়া হয় মৌখিক পরীক্ষা।
পিএসসি সূত্রে জানা যায়, ৪৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই ও নম্বর সংকলনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হওয়ায় রোববার পিএসসির ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করে কমিশন।
নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনতে কমিশন যে ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ রোডম্যাপ তৈরি করেছে এবং তা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। এই নতুন নীতিটি মূলত ৫০তম বিসিএস থেকে দেশজুড়ে পুরোপুরি কার্যকর করা হবে।


