ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজবাড়ীর পাংশায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ৩৭ মণের বিশালাকার ষাঁড় ‘রাজাবাবু’। তিন বছর ধরে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা এই ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের খামারি মো. আলী শেখের খামারে গিয়ে দেখা গেছে, সাদা-কালো রঙের বিশাল ষাঁড়টিকে একনজর দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
খামারি আলী শেখ জানান, প্রায় ১০ বছর আগে শখের বশে খামার শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে গাভিসহ পাঁচটি গরু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ‘রাজাবাবু’। অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটিকে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ছাড়াই গম, ছোলা, চালের গুঁড়া, আলু ও সবুজ ঘাস খাইয়ে বড় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তিন বছর ধরে সন্তানের মতো যত্নে বড় করেছি। প্রতিদিন খাবারেই প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। এবার ঈদে ১০ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছি।’
খামারের কাজে আলী শেখকে সহায়তা করেন তার ছেলে সাহেব আলী শেখ। তিনি বলেন, ‘গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের ব্যয়ও বেড়েছে।’ সীমান্ত দিয়ে বিদেশি গরু প্রবেশ করলে দেশীয় খামারিরা লোকসানে পড়বেন বলে আশঙ্কা তার।
‘রাজাবাবু’ দেখতে আসা স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘ফেসবুকে দেখে বন্ধুদের নিয়ে এসেছি। এত বড় গরু সামনাসামনি না দেখলে বিশ্বাস হতো না।’
পাশের গ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদ আলী বলেন, কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই ৩৭ মণ ওজনের গরু তৈরি করা বড় ধৈর্য ও পরিশ্রমের বিষয়।
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে রাজবাড়ী জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উদ্বৃত্ত পশু রয়েছে। জেলায় মোট চাহিদা ৫০ হাজার ২৮৪টি হলেও প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজারের বেশি পশু। এর মধ্যে গরু ২৯ হাজার ৯৮০টি, ছাগল ৩৮ হাজার ৪১৪টি, মহিষ ২৩৬টি এবং ভেড়া ও অন্যান্য ৪৮১টি। উদ্বৃত্ত প্রায় ১৮ হাজার ৮২৭টি পশু অন্যান্য জেলার চাহিদা পূরণে করবে।
রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘জেলার প্রায় ৮ হাজার ৮৭২ জন খামারি এবার প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ সার্বক্ষণিক তাদের তদারকি ও পরামর্শ দিচ্ছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জেলার উদ্বৃত্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কোরবানির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


