ডাকসু নির্বাচন: ১২ দফা অনিয়মের অভিযোগ ছাত্র ইউনিয়নের

ডাকসু নির্বাচন: ১২ দফা অনিয়মের অভিযোগ ছাত্র ইউনিয়নের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে এবার ১২ দফা অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন ছাত্র সংগঠনটির কর্মীরা।

ডাকসু নির্বাচনে প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মেঘমল্লার বসু বলেন, ‘জয়-পরাজয় যাই হোক, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় লড়াই অব্যাহত থাকবে।’

এ সময়, সদ্য অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার ব্যাহত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মেঘমল্লার বসু বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই একটি বিশেষ মহল আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে এবং নির্বাচনের দিন ভুয়া প্রেস-পাস ব্যবহারসহ নানা উপায়ে নির্বাচন প্রভাবিত করেছে। প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ব্যর্থতার কারণে অনিয়ম সমাধান হয়নি। এতে নির্বাচনি প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’

ছাত্র ইউনিয়নের ১২ দফা অনিয়ম ও অসঙ্গতির মধ্যে রয়েছে‌- বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছাড়া তালিকায় স্বাক্ষর ও নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ব্যালট সরবরাহ করা, ভোটার তালিকা ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের আবেদন করেও প্রশাসনের সাড়া না পাওয়া, ব্যবহৃত ব্যালটে ক্রমিক নম্বর না থাকা, ব্যালটের হিসাব প্রকাশ না করা এবং কোথায় ব্যালট ছাপানো হয়েছে তা না জানানো, এক ছাপাখানায় বিপুলসংখ্যক অরক্ষিত ব্যালট পেপার উদ্ধার হলেও তদারকি না থাকা।

আরও পড়ুন

এছাড়াও ওএমআর মেশিনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট গণনা-পরবর্তী সফটওয়্যার পরীক্ষায় প্রার্থী ও ভোটার উপস্থিত রাখা হয়নি বলে দাবি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন।

ডাকসু নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটগ্রহণ। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস

তারা জানান, ভোটের আগে এজেন্ট তালিকা প্রকাশ করে অনেক প্রার্থীর প্রস্তাবিত এজেন্ট বাদ দেওয়া হয়েছে। অমোচনীয় কালি ব্যবহার না করায় একই ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে ভোট গণনায় গড়িমসি, নির্দিষ্ট প্রার্থীর অবৈধ উপস্থিতি ও পোলিং এজেন্টদের দূরে রাখা, পোলিং অফিসার নিয়োগে অস্পষ্টতাসহ কয়েক অফিসার ভুয়া অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রভাবিত করেছেন বলেও দাবি করে ছাত্র সংগঠনটি।

অস্বচ্ছ ব্যালট বক্স, মার্কার সংকট এবং বলপেন ব্যবহার করায় অনেক ভোট গণনার সময় বাদ পড়েছে বলেও জানান তারা।

মেঘমল্লার বসু বলেন, ‘এসব বিষয়ে বারবার অবহিত করা হলেও প্রশাসন “ইচ্ছাকৃত” কালক্ষেপণ করেছে। ফলে ডাকসু একটি অগণতান্ত্রিক, অনিয়মে পূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।’

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া ডাকসু নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীরা ‘কারচুপির’ অভিযোগে ভোটার তালিকা ও সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানালেও এতে রাজি হয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের ভাষায়, ভোট দেওয়া ভোটারদের তালিকা ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গোপনীয়’ এবং নির্বাচনের সিসিটিভি ফুটেজ ‘প্রাইভেট ডকুমেন্ট’ হিসেবে বিবেচিত। তাই সেগুলো প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর ব্যালট পেপার মুদ্রণের বিষয়ে তোলা অভিযোগের ‘কোনো ভিত্তি নেই’ বলেও মনে করেন তারা।

ডাকসু ‘নির্বাচনের অনিয়ম’ নিয়ে প্রশাসনের কাছে বেশ কিছু প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব বা ব্যাখ্যা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদল ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের উমামা ফাতেমা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর