ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জাল ভোট, ব্যালট পেপারে আগাম সিল মারা, ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়া এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র না থাকার অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এসব অনিয়মের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করে নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ভোট চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদেরকে তিনি এসব অভিযোগ করেন। অনিয়মের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি ও নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে কেন্দ্রগুলো ঘুরে বেশ কিছু দৃষ্টিকটু ও উদ্বেগজনক বিষয় লক্ষ্য করেছি। বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের অনেকের পরিচয়পত্র নেই। আবার কারও পরিচয়পত্র থাকলেও তাতে ছবি নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয়নি।’
‘পরিচয়পত্র না থাকলে কীভাবে নিশ্চিত হব যে তারা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা? বাইরে থেকে কাউকে এনে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আমাদের সন্দেহ রয়েছে’ বলেন তিনি
ব্যালট পেপারে আগাম সিল মারার অভিযোগ করে জামায়াত প্রার্থী বলেন, কোনো কোনো কেন্দ্রে ব্যালট বইয়ের ২০ থেকে ২৫টি ব্যালট পেপারে আগেই সিল মেরে রাখা হচ্ছে। এতে একজন ভোটারকে একাধিক ব্যালট পেপার দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের দুই থেকে তিনটি ব্যালট পেপার দেওয়ার অভিযোগও পেয়েছেন তারা।
জাল ভোটের অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন দাবি করেন, ইতিমধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জন বিএনপি কর্মী জাল ভোট দিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ধানের শীষ প্রতীকসংবলিত টি শার্ট পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করছেন।
বড় খোঁচাবাড়ি হাট কেন্দ্রের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে একদল ব্যক্তি ধানের শীষ প্রতীকসংবলিত টি শার্ট পরে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করার পর তাদের কিছুক্ষণ আটকে রাখা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া রাজাগার খড়িবাড়ি এলাকায় ডাব প্রতীকের এক প্রার্থীর এজেন্টের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে খবর পেয়েছেন তিনি। ওই কেন্দ্রে ব্যাপক জাল ভোট এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে ভোট দেওয়ানোর অভিযোগও করেন।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার বুলবুল কেন্দ্রের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সকালে সেখানে বিএনপির কর্মীরা ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে টেবিলের ওপর ধানের শীষ প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।
ভোট বর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আমরা ভোট বর্জন করার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। আমরা চেয়েছি একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যাতে মানুষের আস্থা ফিরে আসে।


