ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে টাকার বিনিময়ে তাস খেলে জুয়া খেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জুয়ার আসরে অভিযান চালানোর সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার ডান হাতের মধ্যমা আঙুল ভেঙে আহত হয়েছেন।
সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে সদর থানার টহল দল গোপন সূত্রে খবর পায়, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়ায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মূল ভবনের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাস দিয়ে জুয়া খেলছেন।
রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে এএসপি জুয়েল রানার ডান হাতের মধ্যমা আঙুল ভেঙে যায়।
পরে পুলিশ ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), এএসআই শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. আলমগীর কবির (৩৩) এবং ঠাকুরগাঁও শহর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।
অভিযানের সময় আরও দুই পুলিশ সদস্য পালিয়ে যান। তারা হলেন পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ ৫০ টাকার একটি নোট, পাঁচ সেট বা ২৬০টি তাস এবং একাধিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের পাশ থেকে চারটি মোটরসাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই (নিঃ) মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুজিত কুমার পাল বলেন, ‘আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ বা অন্য যে কারও ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধে জড়িত গ্রেপ্তার চার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’


