পানি নিরাপত্তা, টেকসই ব্যবহার ও সকলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ‘অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-ভুক্ত সদস্য দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বুধবার সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির এক সম্মেলনের বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পানি শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি জীবন, উন্নয়ন ও শান্তির ভিত্তি। বৈশ্বিক পানি সংকট মোকাবিলায় ওআইসি দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই টেকসই পানির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস এবং মিঠাপানির দূষণ ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওআইসি দেশগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।’
সম্মেলনের সাইডলাইনে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার আবদুলরহমান বিন আবদুলমোহসেন আলফাদলির সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় নিরাপদ পানীয় জলের জন্য রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং এবং জলবায়ু সহনশীল পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী, যাতে পানি শাসন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা যায়। মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজিস) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার ড. মো. খায়রুল ইসলাম।
ওআইসি আয়োজিত এই সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সীমান্তবর্তী পানি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন।


