টেকনাফ থেকে অপহৃত হয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এক তরুণীকে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করেছে র্যাবের আভিযানিক দল। এ ঘটনায় ওই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের শিলবুনিয়ার জামে মসজিদের সামনে থেকে গত ২৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে তাহেরা ইয়াসমিনকে (ছদ্মনাম) অপহরণকারী চক্রের হাতে তুলে দেয় তার প্রেমিক ইয়াসিন আরাফাত। পরে একটি ঘরে আটকে রেখে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে অপহরণকারীরা।
তাহেরাকে পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শবে কদর নামের এক নারীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ওই নারী তাকে আবার বিক্রির জন্য কক্সবাজার নিয়ে আসে।
রোববার গোপন সূত্রে এসব খবর পেয়ে র্যাব সদস্যরা শহরের কলাতলীর ডলফিন মোড় থেকে তাহেরাকে উদ্ধার করে। পরদিন সোমবার অপহরণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণে জড়িত তিনজনকে টেকনাফ পৌরসভার ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া অপহরণকারী চক্রের ওই সদস্যরা হলেন রেজাউল করিম (২৮), এবাদুল হক (২৯) ও মো. আব্দুল গফুর (৩৬)।
কক্সবাজারে দায়িত্বরত র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে অপহরণ করে টেকনাফ পৌরসভার কুলালপাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে জিম্মি করে রাখে। সেখানেই ৩০ অক্টোবর রেজাউল করিম, এবাদুল হক, মো. রশিদ ও মো. সাইফুল ইসলাম তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে।
র্যাব আরও জানায়, এরপর অপহরণকারী চক্র ভুক্তভোগীকে আব্দুল গফুর নামে এক টমটম চালকের মাধ্যমে ১ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা ২৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি/১ ব্লকের এক রোহিঙ্গা নারীর কাছে বিক্রি করে দেয়।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবার ৩০ অক্টোবর টেকনাফ সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করে এবং ওই তরুণীকে খুঁজে পেতে র্যাবের সহযোগিতা চায়। তারই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৫ ব্যাটালিয়ন সদর ও টেকনাফ ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল তরুণীকে উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।


