প্রথম ম্যাচে পুঁচকে কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র। ব্যস, তাতেই চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছিল সমালোচনার তির। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে চেনা রূপে ফিরল স্পেন। রোববার লামিন ইয়ামাল এবং মিকেল ওয়ারজাবালের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে তারা। আর এই দাপুটে জয়ের পর স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই দলকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করাটা স্রেফ ‘অযৌক্তিক’।
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকায় বার্সেলোনা সুপারস্টার ইয়ামাল প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন না। তবে সৌদি আরবের বিপক্ষে গত দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পান ১৮ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালক। খেলেন মাত্র প্রথমার্ধ। তবে সৌদি রক্ষণভাগকে তছনছ করে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের শক্তিমত্তা জানান দেওয়ার জন্য ওই ৪৫ মিনিটই যথেষ্ট ছিল। ম্যাচের ১০ম মিনিটে ওয়ারজাবালের ক্রস থেকে দারুণ এক গোল করে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলের খাতা খোলেন ইয়ামাল।
ইয়ামালের গোলের পর শুরু হয় মিকেল ওয়ারজাবালের একক প্রদর্শনী। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে সৌদির ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন তিনি। এই নিয়ে নিজের খেলা শেষ ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৪টি গোল করলেন রিয়াল সোসিয়েদাদের এই ফরোয়ার্ড। যিনি ২০২৪ ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন।
গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না হারা একটি দলের ওপর প্রথম ম্যাচের পর যেভাবে সমালোচনা হয়েছিল, তাকে মাত্রাতিরিক্ত ও অন্যায্য বলে মনে করছেন দে লা ফুয়েন্তে। ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ বস বলেন:
‘টানা ৩৩টি ম্যাচে অপরাজিত থাকা এই দলটিকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা আমার কাছে অবান্তর বা অযৌক্তিক মনে হয়। এই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা? আমি মনে করি এটি অন্যায়। যখন কেউ আপনার কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন যেকোনো সাহসী ও গর্বিত মানুষের পক্ষে প্রতিক্রিয়া দেখানোটা খুবই স্বাভাবিক।’
দে লা ফুয়েন্তে স্বীকার করেছেন যে, স্পেন যদি প্রথমার্ধেই ম্যাচের ওপর এতটা আধিপত্য বিস্তার করতে না পারত, তবে হয়তো ইয়ামালকে ৪৫ মিনিটের চেয়েও বেশি সময় মাঠে রাখা হতো। তবে দলের সেরা তারকাকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাননি তিনি। কোচের বিশ্বাস, আগামী দিনগুলোতে শিরোপা জয়ের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইয়ামাল এখন ‘পুরোপুরি ফিট’।
ইয়ামাল বা অন্য সতীর্থদের মতো ওয়ারজাবাল হয়তো বিশ্বমঞ্চের আলোঝলমলে অত বড় তারকা নন, তবে দে লা ফুয়েন্তে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই লা রোহাদের সাফল্যের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি এই ফরোয়ার্ড। ওয়ারজাবালকে অবমূল্যায়ন করা হয় কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ বলেন, ‘যারা ফুটবল বোঝেন তারা মিকেলকে অত্যন্ত উচ্চ মূল্যায়ন করেন; জাতীয় দলে ওর প্রভাব বিশাল। ও এমন একজন খেলোয়াড় যে স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য ইতিহাস তৈরি করার ক্ষমতা রাখে।’


