জুলাই বিপ্লবে ত্যাগকে সামনে এনে নিজেদের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আসনে বড় দল বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন নেয়ার চেষ্টা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বড় দলের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বিকল্প ভাবনাও রয়েছে দলটির। সেক্ষেত্রে গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টিসহ গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের চেষ্টা করবে এনসিপি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট গঠনে প্রশ্নে এই কৌশলী অবস্থানে নিয়েছে এনসিপি। ফলে দলটি এখনো কোনো দলের সঙ্গে জোট গঠন চূড়ান্ত করেনি।
বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনের আগ্রহ থেকে আলোচনা চালালেও এনসিপি সেটি প্রকাশ্য আনতে চাইছে না। বরং বিএনপি ও জামায়াত উভয়কে সমালোচনায় রেখে ‘নিজস্বতা’ বজায় রাখতে চাইলে দলটি। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, তারা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বিএনপি বা জামায়াত যারাই সংস্কারের পক্ষে থাকবে, তাদের সঙ্গে জোট হতে পারে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোর সিনিয়র নেতাদের কয়েকটি আসনে এনসিপি প্রার্থী দেবে না বলেও জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি জানান, আগামী ১৫ নভেম্বর দলের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
দলটির একাধিক নেতা বলছেন, এনসিপি এখন পর্যন্ত বিএনপিসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনে আলোচনায় রয়েছে এনসিপি। এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের আসনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার বিষয় নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে, জুলাই আন্দোলনের পর লোকবল সাপোর্ট দেয়া থেকে শুরু করে নানাক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে জামায়াতের অতীতের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছেন এনসিপি নেতারা। এ ছাড়া জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপিরও সমালোচনা করছে এনসিপি।
এনসিপির একজন যুগ্ম-আহ্বায়ক বলছেন, তারা দুই দলকেই চাপে রাখতে চান। আবার নির্বাচনে জয় নিশ্চিতে সিনিয়র নেতাদের ৪/৫টি আসনে দুই দলের সমর্থনও পেতে চান।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, নির্বাচনী জোট করা নিয়ে এনসিপির বিরুদ্ধে অনেকে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আসলে অনেকের সঙ্গে কথাবার্তা চললেও এনসিপি এখনো কারও সঙ্গে জোট গঠনের বিষয় চূড়ান্ত করেনি।
এদিকে, বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হলে বিকল্প জোট গঠনের ভাবনাও রয়েছে এনসিপিতে। সেক্ষেত্রে এনসিপিসহ ৯ দলের জোট হতে পারে। এই জোটে গণঅধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্যসহ গণতন্ত্র মঞ্চের ছয়টি দল থাকতে পারে।
জোটের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে এসব দলের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে এনসিপির একাধিক সূত্র। গত ৫ নভেম্বর পল্টনে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় অফিসে দলগুলো বৈঠকও করেছে।
এদিকে, সব আসনে নির্বাচনের কথা বললেও এখন পর্যন্ত অনেক জেলা বা উপজেলায় কমিটিও করতে পারেননি এনসিপি। তাই নির্বাচনে সব আসনে ভালো প্রার্থী দেয়া নিয়ে খোদ দলের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির আত্মপ্রকাশ হয়। দলটির বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির যোদ্ধা। ভিন্ন ধারার রাজনীতি আর নতুন বাংলাদেশ উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল এনসিপির।
কিন্তু শুরু থেকেই দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা চাঁদাবাজি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বারবার পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন। তাই তরুণদের নেতৃত্বাধীন দলটি নিয়ে মানুষের মাঝে যে এক ধরনের ইতিবাচক প্রত্যাশা ছিল সেটি অনেকেটাই হতাশায় পরিণত হয়েছে।


