দেশজুড়ে জ্বালানি স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ আট দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির নেতারা।
তারা সতর্ক করেছেন, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পাম্প বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প নাও থাকতে পারে।
বুধবার বিকালে ঢাকার মালিবাগের একটি হোটেলে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
তাদের অন্য দাবিগুলো হলো- সব মোটরসাইকেলে সমানভাবে জ্বালানি সরবরাহ; ছোট ও বড় সব পাম্পে জ্বালানি বিতরণ নিশ্চিত করা; দৈনিক জ্বালানি বরাদ্দ বৃদ্ধি; এজেন্সি, প্যাক পয়েন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ; মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম স্থগিত করা, অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি ডিপোতে অননুমোদিত প্রবেশ সীমিত করা।
সংগঠনের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, ‘একদিকে সরকার বলছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরবরাহে রেশনিং করছে। এই দ্বিধা ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, যার ফলে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় মানুষ দিন-রাত পাম্পে ভিড় করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে অনেক সময় পেট্রল পাম্প মালিকরা গ্রাহকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ছেন। সরকারকে অবশ্যই মালিক, কর্মচারী ও পাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় পাম্প বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ থাকবে না।’
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে নাজমুল হক অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান এবং সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত রেশনিং অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই সবাইকে সে অনুযায়ী জ্বালানি নেওয়ার অনুরোধ করছি।’
আসন্ন ঈদযাত্রার বিষয়টি উল্লেখ করে নাজমুল হক বলেন, ‘রেশনিং অব্যাহত থাকলে ঈদের সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।’ অন্তত অকটেন ও পেট্রলের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জ্বালানি বরাদ্দ পুনর্বহাল করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।


