বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের সংকট পুরোপুরি সরবরাহ ঘাটতির কারণে নয়, বরং কিছুটা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা। তিনি অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করে কালোবাজারিতে বিক্রি করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
শুক্রবার বিকালে ঠাকুরগাঁও পৌর মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত পুনর্বাসন ও উন্নয়ন সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইরান-আমেরিকা সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। কিন্তু কিছু মানুষ অনৈতিকভাবে ব্যবসা শুরু করেছে। তারা তেল নিয়ে কালোবাজারিতে বিক্রি করে দেয়। তেল বিক্রি করে কেউ যাতে ফায়দা না লুটতে পারে, তা নজরদারি করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি বলেছি।’
এলজিআরডি মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা কখনো বিচলিত হবেন না। অন্যায়কে প্রশয় দেবেন না। যারা মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যা প্রচারণা চালায় তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশে একটা শ্রেণি সৃষ্টি হয়েছে, যারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট শক্তিতে পরাজিত করেছি। দল, জোট আন্দোলন করেছে। যারা এসবের জন্য জান-প্রাণ দিয়েছেন, এটার মূল্য দিতে হবে। আর সেটি হলো একটা শান্তিময়, উন্নত ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৬২৮টি পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন ও ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া জেলা পরিষদ থেকে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারকে এক বান্ডিল করে টিন, ৬০টি পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি উন্নয়নকল্পে ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়। এছাড়াও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলজিইডি উন্নয়নে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়।


