জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির জন্য নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম অত্যন্ত সহনীয় বা ‘মডারেট’ পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অধিবেশনে রুমিন ফারহানা জানতে চেয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশের বেশি দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আছে কি না।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি কেন হচ্ছে সেটি আগে বুঝতে হবে। সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম যে হারে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে তা অনেক কম।
তিনি যুক্তি দেন, একটি শিল্প কারখানায় মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় হয় জ্বালানির পেছনে। সেখানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হলেও উৎপাদন খরচের ওপর তার প্রভাব নগণ্য, যা কোনো বড় সমস্যা সৃষ্টি করার কথা নয়।
পরিবহন খাতের গাণিতিক ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, একটি ট্রাক ১০ হাজার কেজি পণ্য পরিবহনে যে পরিমাণ ডিজেল খরচ করে, তাতে জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে খরচ বেড়েছে মাত্র ৪৫০ টাকা। এই অতিরিক্ত খরচকে যখন ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর ভাগ করে দেওয়া হয়, তখন প্রতি ইউনিটে দামের পরিবর্তন অত্যন্ত সামান্য। তাই গাণিতিক হিসেবে এটি মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো কোনো বড় উদ্দীপক নয়।
বিশ্ববাজারের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, আমেরিকা বা ইউরোপের অনেক দেশে জ্বালানির দাম দ্বিগুণ হলেও সরকার ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশে তা নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থনীতির মৌলিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই সরকার এই নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।


