বাংলাদেশে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত কপি পাঠিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (এনসিসি)।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলগুলোর এই অনুলিপি পাঠানো হয়।
এই সনদে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি বা কৌশল সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট সুপারিশ নেই। সংস্কার বাস্তবায়ন-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো পরে আলাদাভাবে অন্তর্বর্তী সরকার ও দলগুলোর কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। সেকারণে এগুলো মূল সনদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আগামী শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এক অনুষ্ঠানে জুলাই জাতীয় সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করবে দলগুলো।
সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এরই মধ্যে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। প্রায় তিন হাজার অতিথিকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করেছে কমিশন।
মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটকে এই দলিলে সই করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগে থেকেই দলগুলোকে দুজন করে স্বাক্ষরকারীর নাম দিতে বলেছিল ঐকমত্য কমিশন। সে অনুযায়ী এরই মধ্যে ৩০টি দলই নাম জমা দিয়েছে।
যদিও আমন্ত্রিত সব দল শেষ পর্যন্ত সনদে সই করবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত।
কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, সনদের এই চূড়ান্ত সংস্করণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আর কোনো মতামত চাওয়া হবে না। যে দলিলটি পাঠানো হচ্ছে তা মূলত গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রচারিত খসড়ারই চূড়ান্ত রূপ। যেখানে শুধুমাত্র ভাষাগত কিছু ছোটখাটো সংশোধন করা হয়েছে। মূল বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন সম্পর্কিত সংবিধানের ৪ এর ক অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়ে দলগুলোর মতামত চেয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
প্রায় সবগুলো দলই এটি বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছিল। তারপরেও এই বিষয়টি চূড়ান্ত সনদে অন্তর্ভুক্ত করেনি কমিশন। বরং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পরবর্তী সংসদের রেখে দেওয়া হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদটি তিনটি স্বতন্ত্র অংশে বিভক্ত। প্রথমটি হলো সনদের প্রেক্ষাপট, এরপর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব এবং সবশেষে সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে সাত দফা প্রতিশ্রুতি।
বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত না হওয়ায় সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান এতদিন আটকে ছিল। কমিশন আগেই বলেছিল যে, সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কমিশন যুক্ত হবে না। যদিও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশগুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে কমিশন আশাবাদী যে শুক্রবারের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগেই সেগুলো সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।
গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোয় ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ এবং বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য ছয়টি আলাদা কমিশন গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এই ছয়টি কমিশনের তৈরি করা প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে।
আলোচনা প্রক্রিয়াটি দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপের আলোচনায় ৩৩টি দল এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩০টি দল অংশ নেয়। ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ব্যাপক আলোচনার পর অংশগ্রহণকারীরা ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্যে পৌঁছায় এবং সিদ্ধান্ত নেয়।
সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতেই জুলাই জাতীয় সনদটি তৈরি হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত কপিটি দেখুন এখানে: জুলাই জাতীয় সনদ


