একদিকে যখন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে ভুয়া যোদ্ধা যাচাইয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তখন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবারই ঢাকার সিএমএম আদালতে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জুলাইযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলমকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে এই মামলা করা হয়।
যা গ্রহণ করেছে আদালত, তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে শাহবাগ থানার ওসিকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন বলছে, এই মামলা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই মামলা করা হয়েছে।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামাল আকবরের সই করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে “জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে ভুয়া যোদ্ধা যাচাইয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং একই অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলার পুনরাবৃত্তিতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন।’
বিবৃতিতে যে দুটি মামলার কথা বলা হচ্ছে তার অন্যটি করা হয়েছিল গত ১৪ অক্টোবর। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগে মামলা করেন ওই ব্যক্তি। সেখানে ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তাসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি এখন তদন্ত করছে সিআইডি।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের ত্যাগ, আদর্শ ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন, সুচিকিৎসা এবং সম্মানজনক সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফাউন্ডেশনটি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে।’
‘ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রম যখন সারাদেশে প্রশংসিত ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তখনই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পুরোনো এবং অপ্রমাণিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে একের পর এক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে-জুলাই পরিবারের ঐক্য, সংগ্রাম ও মানবিক কার্যক্রমকে বিভ্রান্ত করা এবং জাতির কাছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার এক সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে।’
জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম এবং জুলাই সনদ যখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, তখন ফাউন্ডেশনকে বিতর্কিত করার চেষ্টাকে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার সঙ্গে তুলনা করেছেন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল আকবর।
তিনি বলেন, ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড ও মিডিয়া ট্রায়ালের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ফাউন্ডেশন আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল, এবং মামলাগুলো স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে চলতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সত্য ও ন্যায়ের জয় অবশ্যম্ভাবী।’
ফাউন্ডেশনের কোনো সদস্য কোনোভাবেই নিপীড়ন, নির্যাতন বা মানবাধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন না উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তারা সর্বদাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন আছেন এবং থাকবেন।’
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন মানবতা, ন্যায়বিচার ও পুনর্গঠনের পথে তার অঙ্গীকারে অবিচল থাকবে এবং কোনো প্রকার অপরাধ, অনিয়ম বা অমানবিক কার্যক্রমকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।


