জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধেরই আরেকটি ধারাবাহিকতা।’
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেছেন।
নাহিদ আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান “আনকমপ্রোমাইজিং”। আমরা মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করি। এই প্রজন্মের যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে তার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন হয়েছে।’
‘মুক্তিযুদ্ধে আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলেছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছি–কোথায় পার্থক্য?’
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধ থেকে বড়–এমন কথা কেউ বলেনি। তার মতে, ‘মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ফাউন্ডেশন। এ ব্যাপারে আমরা আনকমপ্রোমাইজিং।’
একই আলোচনায় তিনি রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনকে ‘দুর্নীতিবাজ, মিথ্যুক ও অপদার্থ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, দুদকের কমিশনার থাকাকালে শাহাবুদ্দিন তিনটি নির্দিষ্ট ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ পালন করেছিলেন–খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের শাস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া; ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দীন আমলের মামলা থেকে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের মুক্তি দেওয়া।
নাহিদ প্রশ্ন তোলেন, বর্তমানে সাংবিধানিক সংকট না থাকলেও কেন রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ‘সংবিধানের ধারাবাহিকতার কথা বলে বিএনপি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে বাধা দিয়েছে।’
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭২-এর সংবিধান ইনহেরেনটলি আনডেমোক্রেটিক। একজন ব্যক্তির হাতে সমস্ত ক্ষমতা দেওয়ার সংবিধান।’
তিনি দাবি করেন, এটি শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন্দ্র করে প্রণীত হয়েছিল।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এটিকে অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করা হয়েছে।’
তিনি জানান, তার দল সনদ স্বাক্ষরের দিন স্বাক্ষর না করে পরে নিজেদের মতামত দিয়েছে।


