২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতের বিষয়ে জাতিসংঘ নিজেদের রিপোর্টেই আস্থা রাখছে। আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের তফসিলভিত্তিক প্রতিবেদনকেই তারা সমর্থন জানিয়েছে। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘অতিরঞ্জিত’ দাবি করে শেখ হাসিনা ও তার আইনজীবী দলের অভিযোগকেও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক গত সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের তথ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদন আমাদের মানবাধিকার দপ্তরের সহকর্মীরা প্রস্তুত করেছেন এবং আমরা এটি নিয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না। তা পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই।’
প্রতিবেদনে প্রকাশিত মৃত্যুর সংখ্যা সংশোধনের জন্য শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করার পর এই প্রতিক্রিয়া আসে।
গত ২৮ মে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জুলাই অভ্যুত্থানে নিয়ে জাতিসংঘের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ‘গুরুতর ভুল তথ্য’ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন শেখ হাসিনার আইনজীবী ও যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের সদস্য স্টিভেন পাওলস।
পাওলস বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারি নথিপত্র থেকেই এখন স্পষ্ট হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার যে দাবি জাতিসংঘের প্রতিবেদনে করা হয়েছে, তা “অত্যন্ত ভুল ও বিভ্রান্তিকর”।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারি গেজেটের বরাতে ওই চিঠিতে পাওলস বলেন, ‘এই গেজেট এখন প্রমাণ করছে যে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৮৩৪। এমনকি সেখানে ছাত্রনেতৃত্বাধীন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনও নিহতের সংখ্যা ৬৫০।’
চিঠিতে ভলকার তুর্কের অফিসকে অবিলম্বে এই মৃত্যুর সংখ্যার সংশোধন এবং প্রকাশ্যে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
শেখ হাসিনার আইনজীবীর অভিযোগ, প্রতিবেদনের ১৪শ মৃত্যুর হিসাব সরকারি রেকর্ডের প্রায় দ্বিগুণ এবং প্রতিবেদনে ব্যবহৃত পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ।


