চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির ওপর বয়ে যাওয়া হালদাকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করেছে সরকার। জীববৈচিত্র্য ও হালদার মাছ রক্ষায় এবং পরিবেশ দূষণ রোধে এ বিষয়ে ১৬ দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বুধবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
হালদা নদী বিশুদ্ধ দেশীয় প্রজাতির কার্প মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হিসেবে বিখ্যাত। এটি বাংলাদেশ এবং সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র বিশুদ্ধ দেশীয় কার্প প্রজননক্ষেত্র।
প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে এ প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষায় এবং গাঙ্গেয় ডলফিনের আবাসস্থল সংরক্ষণের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী উপজেলা এবং পাঁচলাইশ থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী এবং নদী তীরবর্তী ৯৩ হাজার ৬১২ টি দাগের ২৩ হাজার ৪২২ দশমিক ২৮০৫৯ একর জায়গা ‘হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এখন থেকে হালদা নদী ব্যবহারে নিম্নলিখিত শর্তাবলি মেনে চলতে হবে। সরকার জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ডসহ মাছ ধরা নিষিদ্ধে সরকারের দেওয়া শর্তগুলো হলো-
- এই নদী থেকে কোনো প্রকার মাছ বা জলজ প্রাণী ধরা বা শিকার করা যাবে না। তবে মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর নির্ধারিত প্রজনন মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ে নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা যাবে।
- প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংস করে এমন কোনো কাজ করা যাবে না।
- ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট বা পরিবর্তন করে এমন কোনো কাজ যাবে না।
- মাছ, ডলফিন বা অন্য জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
- নদীর আশপাশের গৃহস্থালি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপন্ন কঠিন বা তরল বর্জ্য নদীতে ফেলা যাবে না।
- কোনো অবস্থাতেই নদীর বাঁক কেটে সোজা করা যাবে না।
- ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে হালদা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ১৭টি খালে মাছ ধরা যাবে না।
- হালদা নদী ও এর সংযুক্ত খালে কোনো নতুন রাবার ড্যাম বা কংক্রিট ড্যাম নির্মাণ করা যাবে না।
- ‘হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ তদারকি কমিটির’ অনুমতি ছাড়া নদীতে নতুন পানিশোধনাগার বা সেচ প্রকল্প স্থাপন করে পানি উত্তোলন করা যাবে না।
- পানির গুণাগুণ বা মাছসহ জলজ প্রাণীর ওপর গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো দেশী বা বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ‘হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ তদারকি কমিটির’ অনুমতি ছাড়া গবেষণা চালাতে পারবে না।
- মাছের প্রাক-প্রজনন পরিভ্রমণ সচল রাখার স্বার্থে হালদা নদী এবং সংযোগ খালের পানির প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।
- সারা বছর হালদা নদীর কর্ণফুলী মোহনা থেকে নাজিরহাট ব্রিজ (অভয়াশ্রম এলাকা) পর্যন্ত ইঞ্জিনচালিত ভারী নৌযান (বালুবাহী ও পণ্যবাহী নৌকা এবং ড্রেজার) চলাচল করতে পারবে না।
- হালদা নদী ও এর উপনদীতে বালু উত্তোলনের লিজ বন্ধ থাকবে এবং ড্রেজার বা ক্ষতিকর উপায়ে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়াও নদী অববাহিকা এলাকায় তামাক চাষ, সেখানকার কৃষিজমিতে ক্ষতিকর কীটনাশক বা পোকামারার ওষুধ এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় কোনো ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, পরিবেশ ও প্রতিবেশের উন্নত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এলাকার সীমানা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে এই বিজ্ঞপ্তির সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ, সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে।


