জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জামায়াতের নেতাকর্মীরা জুলুম–নির্যাতন সহ্য করে দেশেই ছিলেন। দেশ থেকে কোথাও মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যাননি। যে দলের নেতারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসেন, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান না।’
শনিবার গাইবান্ধা পলাশবাড়ী এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘কাউকে ভাতার লোভ দেখিয়ে ভোট চাইব না, কাজ দিয়ে দেশের বেকার মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিতে চাই। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আমরা বেকার যুবক–যুবতীদের কাজের ব্যবস্থা করে দেব।’
তিনি বলেন, ‘কৃষিকে আর পুরান ধাঁচে চালানো হবে না। এখানে আধুনিকায়ন করে, আধুনিক লজিস্টিক সরবরাহ করে ন্যায্যমূল্যে তা কৃষকের হাতে তুলে দিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে তুলব।’
তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদন করার পরে বাজারে তার সঠিক মূল্যে পাওয়া যায় না। সংরক্ষণের অভাবে অনেক সময় উৎপাদিত ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এসব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে ফসলের ন্যায্যমূল্য দেওয়া হবে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।’ ফসল ও সবজির সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন শফিকুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত না হলে রংপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে আমাদের বেইমানি করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াত নির্বাচিত হলে সুযোগ পাব পাঁচ বছরের জন্য। যারা চাঁদাবাজি করছেন, তাদের কাজ দিয়ে সম্মানিত করব। তাদের আর চাঁদাবাজি করতে হবে না। আমরা জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে বিচার অর্থের বিনিময়ে কেনা যায় না, যেখানে ধনী–গরিব–শিক্ষিত সর্ব শিক্ষিত সবার জন্য অধিকার সমান হবে। এমন বাংলাদেশ আমরা চাই, যেখানে ধর্মে ধর্মে আর কোনো সংঘাত হবে না।’
গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, একটি ইপিজেড নির্মাণ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বালাশীঘাট থেকে বাহাদুররাবাদ ঘাটের জন্য টানেল নির্মাণ করা হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা–৩ (পলাশবাড়ী –সাদুল্লাপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাগপা সহ–সভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম জুয়েল, শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি সিগবাতুল শিগবা, পাঁচ আসনের মনোনীত প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতারা।
জনসভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন।


