জামায়াতের ‘জাতীয় সমাবেশ’ চলছে

জামায়াতের ‘জাতীয় সমাবেশ’ চলছে
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সমাবেশ’। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় সমাবেশ’ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জাতীয় সমাবেশের প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন সাইফুল্লাহ মানসুর। সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এছাড়া নগর ও বিভাগীয় পর্যায়ের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

সকাল ১০টা থেকে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল রাত থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা, জুলাই গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কারসহ ‘সাত দফা’ দাবিতে এই জাতীয় সমাবেশ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সমাবেশ’ অভিমুখে মিছিল। ফটো: টাইমস

সকাল থেকেই সমাবেশস্থলে জনসমাগম বাড়তে থাকে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে আগত নেতা-কর্মীদের মাঝে। স্বতঃস্ফূর্ত, বাধাহীন অবস্থায় দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর দলের জাতীয় এ সমাবেশ স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমাবেশস্থলের সব প্রস্তুতি শুক্রবারই শেষ করে দলটি। মাঠের চারপাশে টানানো হয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন, মঞ্চের সামনে সাজানো হয়েছে সারি সারি চেয়ার।  টয়লেট ও পানির কলসহ জায়ান্ট স্ক্রিন সবই প্রস্তুত করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব পাশে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। মঞ্চের সামনে গতকাল রাতেই জড়ো হয়েছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা। তাদের কারো পরনে জামায়াতে ইসলামীর লোগো সংবলিত টি-শার্ট। কারো মাথায় বাঁধা দলীয় সাদা ফিতা। আবার কেউ কেউ এনেছেন দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লাও। রাতে মঞ্চের সামনে ত্রিপল বিছিয়ে দেওয়া হয়। নেতা-কর্মীদের অনেকেই সেখানে শুয়ে-বসে রাতে সময় কাটান। কেউ দিতে থাকেন দলীয় স্লোগান। এশা ও ফজর নামাজ সেখানেই আদায় করেন তারা।

আরও পড়ুন

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন আবু কাউছার। সমাবেশের মূল মঞ্চের পাশেই বসে ছিলেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অন্তত ৫০ হাজার নেতাকর্মী আসবেন। ঢাকার পাশের জেলা হওয়ায় এ সংখ্যা আরো বেশিও হতে পারে। তিনি তার কয়েক বন্ধুসহ সমাবেশের আগের রাতেই এসেছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের প্রস্তুতি দেখতেই মূলত আগেভাগে চলে আসা বলেও জানান তিনি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা থেকে এসেছেন ইউসুফ হোসেন। তিনি জানান, প্রথমবারের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারবো ভেবে ভীষণ ভালো লাগছে। রাতে মাঠেই ছিলেন তিনি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সমাবেশ’। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস

মাঠে দায়িত্বপালনরত স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, তৈরি করা হয়েছে ৫ শতাধিক অস্থায়ী টয়লেট। ওজুর জন্য ১ হাজারেরও বেশি ব্যবস্থাগ্রহণ ও অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট স্থাপন করা হয়েছে। অগণিত নেতা-কর্মী ও সমাবেশে আগত সাধারণ মানুষের অসুবিধা যেন না হয়, তা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকাজুড়ে রয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হলেও যেন সমাবেশে অংশগ্রহণকারী মানুষের কষ্ট না হয়, সে জন্য আমাদের কর্মীরা সব ব্যবস্থা নিয়েছেন। নিরাপত্তা, সেবাপ্রদান ও শৃঙ্খলার বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক। মঞ্চের দু’পাশে থাকছে দুটি বড় জায়ান্ট স্ক্রিন এবং সমাবেশের আশপাশে গুরুত্বপূর্ণ ৫০টিরও বেশি পয়েন্টে বসানো হয়েছে এলইডি স্ক্রিন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাজুড়ে ৪শ’টির বেশি মাইক বসানো হয়েছে। অতিথি ও নেতাদের বসার জন্য মঞ্চের সামনের দু’পাশে রাখা হয়েছে ৬শ’ চেয়ার।

মাঠের ভেতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক মনিটরিং সেল। দলে ৬ হাজারের মতো স্বেচ্ছাসেবক ৮টি বিভাগের আওতায় কাজ করবেন বলে জানা গেছে। 

যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। ঢাকার বাইরের বাসগুলোর ড্রপিং পয়েন্ট নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীরা বিশেষ ট্রেনে চড়ে সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছেন। এসেছেন সড়ক ও নৌপথেও।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad