জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোট আয়োজন ইস্যুতে আলোচনায় বসার জন্য জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সরকারের—এতে রাজনৈতিক দলের আলোচনার প্রয়োজন নেই।
এই অবস্থায় সনদ ও গণভোট ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আয়োজন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।
সংসদের আগে গণভোটের দাবিতে রাজপথে নেমেছে জামায়াত ও তাদের সমমনা ৭টি দল। অন্যদিকে গণভোট নিয়ে জামায়াতের এই দাবিকে সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বলছে বিএনপি।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফোন করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দেন।
এ প্রস্তাব নিয়ে রাতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক বসে। বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ নেতা জামায়াতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, জামায়াতের ডাকে আলোচনায় বসার যৌক্তিকতা নেই। অবশ্য এনিয়ে সরকার রাজনৈতিক সংলাপের উদ্যোগ নিলে বিএনপি অংশ নিতে পারে বলে কোনো কোনো নেতা মত দেন।
বিএনপি নেতারা বৈঠকে বলেন, ৯ মাস ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে অংশ নিয়ে জুলাই সনদের কোন কোন প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ এবং সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সনদ চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে জমা দেয়। তখন থেকেই সংকট তৈরি হয়—যার দায় সরকার ও কমিশনের।
বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট—সমাধান দেবে সরকার, সমঝোতা নয়। জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন করতে হবে।
বিএনপির বৈঠক শেষে বলা হয়, জুলাই সনদ আইনানুগভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যথাসময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষ নতুন সংকট সৃষ্টি করে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এ নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তই আমাদের চূড়ান্ত অবস্থান। সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট করতে হবে।’
সরকারের ভূমিকা নিয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র ধ্বংস ও নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত চলছে। সরকার সঠিক পথে না হাঁটলে দায় তাদেরই নিতে হবে।’
এদিকে বিএনপি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও গণভোট নিয়ে সমঝোতার জন্য অন্যান্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে জামায়াতে ইসলামীর দুই সদস্যের কমিটি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টিসহ ৯টি দলের সঙ্গে তাদের আলোচনা এগিয়েছে। বিএনপি প্রকাশ্যে আগ্রহ না দেখালেও নেপথ্যে দলটির কয়েকজন নেতা জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।
জামায়াত নেতারা মনে করছেন, যেকোনো সময় আলোচনার দরজা খুলে যেতে পারে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে তিন দফা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তারা ১১ নভেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ঘোষণা দিয়েছেন, ‘সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করা হবে। দাবি না মানলে মহাসমাবেশ, আন্দোলন আরও তীব্র হবে, ঢাকার চিত্র বদলে যাবে।’
তবে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেশের স্বার্থে গণতন্ত্রকামী দলগুলো একে অপরের সঙ্গে সংলাপে বসবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতোই বলছে যে তারা জামায়াতের ডাকে কেন আলোচনায় বসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ডাকলে আমরাও বসব। বর্তমান সংকট উত্তরণে এক টেবিলে বসা ছাড়া বিকল্প নেই। জামায়াতের আহ্বানে বিএনপি আলোচনায় বসবে না—এমন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আমাদের জানানো হয়নি।’


