জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিনেটে প্রায় সাড়ে তিন দশক পর পুনরায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) থেকে পাঁচজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে সিনেট সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, ১৯৭৩ অনুযায়ী সিনেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা। অধ্যাদেশের ১৯(১)(ক) ধারায় জাকসুর মাধ্যমে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনয়নের বিধান রয়েছে।
যদিও আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি আসন সংরক্ষিত, দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এসব পদ কার্যত শূন্য ছিল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাকসুর তৃতীয় কার্যনির্বাহী সভায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
নতুন সদস্যরা হলেন জাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) ফেরদৌস আল হাসান, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (নারী) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা এবং পরিবেশ ও প্রকৃতিবিষয়ক সম্পাদক সাফায়েত মীর।
শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ফারদিন তোহা রাফি বলেন, দীর্ঘদিন সিনেটে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি না থাকায় তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে যথাযথভাবে উপস্থাপনের সুযোগ ছিল না।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সবচেয়ে কার্যকরভাবে শিক্ষার্থীরাই তুলে ধরতে পারেন। তাই সিনেটে তাদের প্রতিনিধিত্ব পুনর্বহাল হওয়ায় ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মতামত ও অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও গুরুত্ব পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


