জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুটি আবাসিক হলে প্রকাশিত ১৬ ডিসেম্বরের ফিস্টের নোটিশে ‘মহান বিজয় দিবস’ উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটি বলেছে, জাতীয় দিবসকে উপেক্ষা করা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অবমাননার শামিল এটি।
শহীদ ফেলানী খাতুন হল ও জুলাই ২৪ জাগরণী হল কর্তৃপক্ষ ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত খাদ্যের কুপন বিতরণের পৃথক দুটি নোটিশ প্রকাশ করে। নোটিশ দুটিতে প্রতিদিন সকাল-বিকাল নির্ধারিত সময়সূচি উল্লেখ থাকলেও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের জন্য কোনও বিশেষ আয়োজন বা ফিস্টের কথা বলা হয়নি। এর পরেই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করে।

এ নিয়ে এক সংবাদ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর মহান বিজয় দিবসে ফিস্ট আয়োজন একটি চর্চিত প্রথা। শহীদ স্মরণ, বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক মিলনমেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি। কিন্তু এ বছর দুই হল প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে সেই আয়োজন বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা স্বাধীনতা ও বিজয়ের চেতনাবিরোধী।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো জাতীয় দিবসগুলোকে মর্যাদার সঙ্গে পালন করা। অথচ নোটিশে বিজয় দিবসকে উপেক্ষা করে কুপন বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যা গভীর অসংবেদনশীলতার পরিচয়।
ছাত্র ইউনিয়ন এটিকে পরিকল্পিতভাবে ‘জাতীয় দিবসের গুরুত্ব খাটো করার প্রয়াস’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এদিকে জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বিজয় দিবস স্বীকার করতে যাদের দ্বিধা, তাদের প্রতি কোনো সম্মান দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না। এমন মানসিকতা ধারণকারী ব্যক্তি শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নোটিশ অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর সকাল ১১টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কুপন সংগ্রহ করতে পারবে এবং প্রতিটি কুপনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা।


