অকুতোভয় জনস্বাস্থ্য চিন্তাবিদ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে দেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি বলেছেন, ‘জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, গোটা জাতিরই গভীর ঋণ রয়েছে।’
শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জাফরুল্লাহ চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় চৌধুরীর জীবন, কর্ম ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন নুর।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিহাস চর্চার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণের অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন আড়ম্বরবিমুখ মানুষ। সাধারণ মানুষের দেওয়া চাল, ডাল, লাউ কিংবা মুরগি দিয়ে তিনি অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করতেন। বড় বাজেটের পরিবর্তে তিনি মিতব্যয়িতাকে গুরুত্ব দিতেন।’
তিনি আরও বলেন, ফজলে হাসান আবেদ ও মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী। বেঁচে থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে সরাসরি ইউনূসকে প্রশ্ন করতেন এবং দক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে তার নিজস্ব ভাবনা ছিল। তিনি প্রায়ই ‘প্রাদেশিক সরকার’ পদ্ধতির কথা বলতেন, যাতে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রশাসকদের মধ্যে কাজের প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং সাফল্যের মূল্যায়ন সহজ হয়।’
রাজনৈতিক সংকটের সময় তার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি যখন মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে আন্দোলন সংগঠিত করতে হিমশিম খাচ্ছিল, তখন তিনি আন্দোলন সফল করতে একটি সমান্তরাল প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।’
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ‘জাফরুল্লাহ চৌধুরী কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তার প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ত্রাণ কার্যক্রম ছিল দলমত-নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত। বিভিন্ন ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনকেও তিনি সংকটকালে সহায়তা করেছেন।’
প্রায় এক মাস আগে নির্ধারিত এ স্মরণসভা বিভিন্ন কারণে মে মাসে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজক মোজাফফর সাহেবের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার মতো মানুষের অভাব আজ প্রতিটি পদে অনুভূত হচ্ছে।


