জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সানায়ে তাকাইচি-কে নির্বাচিত করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। মঙ্গলবার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষের ভোটে সানায়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়।
বিবিসির খবরে বলা হয়, পার্লামেন্টের ভোটে নিম্নকক্ষে ২৩৭টি ভোট পেয়েছেন তাকাইচি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যে পরিমাণ ভোট দরকার সংখ্যাটা তার থেকেও বেশি। দুই কক্ষেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এপি’র খবরে বলা হয়, দেশটির নিম্নকক্ষে ২৩৩টি আসন এবং উচ্চকক্ষে আসন সংখ্যা ১২৪।
এর এক দিন আগে সোমবার তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নতুন সহযোগী দল ডানপন্থী ‘জাপান ইনোভেশন পার্টির’ (ইশিন নো কাই) সঙ্গে জোট করে। এতে কট্টর ডানপন্থী সানায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলে সরকারকে আরও ডানপন্থী পথে নিয়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাকাইচি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা-র স্থলাভিষিক্ত হবেন। ইশিবা মাত্র এক বছর ক্ষমতায় ছিলেন। গত জুলাইয়ের নির্বাচনে এলডিপির ভরাডুবিতে এরইমধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সেই সঙ্গে তার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও নতুন সরকারকে স্বাগত জানাতে সরে দাঁড়িয়েছেন।
ইশিন নো কাইয়ের সঙ্গে জোটের পরই পার্লামেন্টে তাকাইচির নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়ে। সোমবার জোট স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তাকাইচি বলেন, ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন সবচেয়ে জরুরি। স্থিতিশীলতা ছাড়া শক্তিশালী অর্থনীতি বা কূটনীতি সম্ভব নয়।’
এই নতুন জোটের মাধ্যমে তাকাইচি তার জাতীয়তাবাদী ও কঠোর অবস্থানের নীতি আরও জোরদার করতে চান। তবে ১০ দিন আগে এলডিপির দীর্ঘদিনের সহযোগী, শান্তিবাদী দল কোমেইতো তাদের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় পার্লামেন্টে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৬৪ বছর বয়সী তাকাইচির মন্ত্রিসভায় থাকবেন এলডিপির প্রভাবশালী নেতা তারো আসো-এর ঘনিষ্ঠরা। তবে জাপান ইনোভেশন পার্টি তাকাইচির আস্থা অর্জন না করা পর্যন্ত তাদের কেউ প্রাথমিকভাবে মন্ত্রী হবেন না।
কুটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাকাইচিকে এখন দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে। তার সামনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক, শুল্ক নীতি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও আঞ্চলিক সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
জাপানের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি রোধ ও অর্থনীতি চাঙা করতে ডিসেম্বরের মধ্যেই তাকে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, তাকাইচি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেও তিনি নারী উন্নয়ন বা সমতার বিষয়ে তেমন আগ্রহী নন। তিনি রাজপরিবারে শুধু পুরুষ উত্তরাধিকার বজায় রাখার পক্ষে। সেই সঙ্গে, সমলিঙ্গ বিয়ের বিরোধিতা এবং বিবাহিত দম্পতির আলাদা পদবি (স্বামীর নাম যুক্ত না করা) রাখারও বিরোধী তিনি।


