দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে গণটিকাদান কর্মসূচি বড় ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, সময়মতো ‘ম্যাসিভ ভ্যাক্সিনেশন’ শুরু না হলে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। তবে সরকারের পদক্ষেপে এখন হাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘দেশব্যাপী হাম এর প্রাদুর্ভাব: চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বলেন, ‘যেভাবে হাম আক্রমণ করেছিল, আমরা যদি ম্যাসিভ ভ্যাক্সিনেশনে না যেতাম তাহলে একটা ভয়াবহ চিত্র দেশে ধারণ করত। এখন অন্তত হামটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে পেরেছি।’
মন্ত্রী জানান, মার্চের শেষ দিকে রাজধানীর মহাখালীতে এক শিশুর মৃত্যুর পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। তখন খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দেশে পর্যাপ্ত টিকার ব্যবস্থা ছিল না। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার ইউনিসেফ, গাভি এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন (ডব্লিউএইচও)-এর সহায়তা চায়।
তিনি বলেন, ‘তারা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আমাদের টিকা দিয়েছে এবং আরও টিকা আসছে। এখন টিকা কার্যক্রম শেষে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’
টিবির টিকা ও সিরিঞ্জ সংকট নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, টিবির টিকা পাওয়ার পর সিরিঞ্জের ঘাটতির তথ্য আসে। পরে বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে সেই সংকটের সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল থেকে ১১ লাখ সিরিঞ্জ বিতরণ শুরু হয়েছে। এখন টিবির টিকাসহ কোনো টিকারই ঘাটতি উপজেলায় নেই।’
হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। খুলনার একটি হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে টেন্ডার ও আউটসোর্সিংকে ঘিরে ‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী’ সক্রিয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য ও একজন প্লাটুন কমান্ডার মোতায়েন করা হবে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।
হামের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ১২ তারিখ থেকে যেসব এলাকায় টিকাদান শুরু হয়েছে, সেখানে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ‘অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে। সেই সময় পার হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হাম আরও কমে আসবে বলে আশা করছি,’ বলেন তিনি।
এ সময় গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম ইতিবাচকভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরেছে এবং সরকারের ব্যর্থতার দিকও সামনে এনেছে, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হয়েছে।
ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত না থাকলেও ঈদের পর বড় আকারে কর্মসূচি চালানো হবে। তিনি জানান, ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভিটামিন এ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।


