সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জবানবন্দি দেন। তিনি জব্দ তালিকার সাক্ষী। পরে তাকে জেরা করেন পলকের পক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটো ও জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মঞ্জুর আলম। জেরা শেষে আগামী ১০ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতে উদ্বোধনী বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রসিকিউশন জয় এবং পলককে জুলাই গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করে। ২১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে আসত এবং সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেন জুনায়েদ আহমেদ পলক। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।
তবে আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পলকের আইনজীবী আদালতে বলেন, ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ পলক দেননি এবং এই সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আসত। তিনি আরও বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং গুজব প্রতিরোধে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল।
এই মামলার আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন। অপর আসামি জুনায়েদ আহমেদ পলক বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় আছেন। শুনানির জন্য তাকে বুধবার কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অভিযোগ গঠনের জবাবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়। ওই দিন জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং আটক পলককে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।


