চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্য হত্যা মামলায় আলাদা আলাদা অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ২০ পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭ চট্টগ্রাম ও জেলা পুলিশ।
গত ১৯ জানুয়ারি ভোরে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে চারজন র্যাব সদস্য গুরুতরভাবে জখম হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক র্যাব সদস্য ডিএডি আব্দুল মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় র্যাব-৭ চট্টগ্রাম বাদী হয়ে গত ২২ জানুয়ারি সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলায় ২৯ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে র্যাব-৭ চট্টগ্রাম। পাশাপাশি জেলা পুলিশও পৃথকভাবে অভিযান চালাতে থাকে। এখন পর্যন্ত র্যাব-৭ এর অভিযানে ১৩ জন এবং জেলা পুলিশের অভিযানে আরও সাতজনসহ মোট ২০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২৭ মার্চ ভোরে নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার নবগ্রাম এলাকায় র্যাব-৭ চট্টগ্রাম ও র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের যৌথ অভিযানে এজাহারভুক্ত ২৯ নম্বর আসামি মো. পারভেজ (৩৫) গ্রেপ্তার হন। তিনি জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বাসিন্দা।
একই দিন বিকালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার উদালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মো. বেলালকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২৪ নম্বর আসামি সাইদুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়, যার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায়।
এর আগে ২৩ মার্চ সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬ নম্বর আসামি মিজানুর রহমান সোহানকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
ফেব্রুয়ারিতে আলাদা অভিযানে আরও কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের দক্ষিণ কাট্টলী এলাকা থেকে মো. সেলিম (৩৫) এবং ১০ ফেব্রুয়ারি চাঁদগাঁওয়ের ফরিদার পাড়া এলাকা থেকে সেকেন্দার মিয়া ওরফে ইয়াকুবকে (৪৩) আটক করা হয়।
মামলার পরপরই জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ধারাবাহিক অভিযানে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ২২ জানুয়ারি বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ নম্বর আসামি ইউনুছ আলী হাওলাদারকে (৬২) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন পতেঙ্গা এলাকার ওয়াসা গলি থেকে ২৬ নম্বর আসামি খন্দকার জাহিদ হোসেনকে (৩৯) আটক করা হয়।
এছাড়া ২৪ জানুয়ারি কক্সবাজার সদর উপজেলার সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় র্যাব-৭ ও র্যাব-১৫ এর যৌথ অভিযানে ২১ নম্বর আসামি আলীরাজ হাসান ওরফে সাগরকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ২৫ জানুয়ারি খুলশীর ইস্পাহানি মোড় এলাকা থেকে মিজান (৫৩) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৬ জানুয়ারি বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার বগুড়া নিবাস এলাকা থেকে মামুন (৩৮), ২৮ জানুয়ারি সীতাকুণ্ডের সালেহা কটন মিল এলাকা থেকে শহাজাহান (৫৩) এবং ২৯ জানুয়ারি আকবরশাহ থানার বিশ্ব কলোনী এলাকা থেকে শফিকুল ইসলাম ওরফে মাস্টার শফিকুল ইসলামকে (৫১) গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও মিলেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।


