আগামী সপ্তাহে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং চীন সফরে যাচ্ছেন। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন বলে শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আগামী ১৫ থেকে ১৯ জুন এই রাষ্ট্রীয় সফর অনুষ্ঠিত হবে। গত এপ্রিলে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটি তার দ্বিতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি ভারত সফর করেছিলেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, বেইজিং এই সফরের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের ‘সবুজ ও ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর’ করতে চায়।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আন্তর্জাতিকভাবে বেশ কূটনৈতিক একাকীত্বে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি। ক্ষমতা দখলের পর থেকে সামরিক বাহিনীকে বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র সশস্ত্র সংঘাতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের প্রায় ২ হাজার ১০০ কিলোমিটারের এক দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। প্রতিবেশী দেশটিতে যেন পুরোপুরি রাজনৈতিক বিপর্যয় না ঘটে, সেজন্য চীন সক্রিয়ভাবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে আসছে। এ ছাড়া, চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও বেইজিং জোরালো সমর্থন দিয়েছিল, যে নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক মিত্ররা বড় জয় পায়।
সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পর মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। মিয়ানমার সরকার এই পদক্ষেপকে বেসামরিক শাসনে রূপান্তর হিসেবে দাবি করলেও, গণতন্ত্র পর্যবেক্ষকরা একে সামরিক কর্তৃত্বেরই নতুন রূপ বা খোলস পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বর্তমান প্রশাসনের অধীনে মিয়ানমার চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো প্রকল্পগুলো নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করেছে।


