২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বাকি পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২৬ জানুয়ারি সোমবার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, এ রায় দেয়। এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে ২৬ ও আসামিপক্ষে তিন জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীরা আদালতে শপথ করে জবানবন্দি দেন, পরে প্রতিপক্ষের আইনজীবী তাদের জেরা করেন।
প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের মধ্যে নয় জন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। আদালতে তারা দিয়েছিলেন ঘটনার বয়ান। আঞ্জুয়ারা ইয়াসমিন মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী। তিনি বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে একটার মধ্যে চাঁনখারপুলের নিমতলী বাকরখানির দোকানের সামনে একজন আন্দোলনকারীকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখি। পরবর্তীতে পত্র-পত্রিকা, এবং টিভি নিউজের মাধ্যমে জানতে পারি ডিএমপি কমিশনারসহ অন্যদের নির্দেশে গুলি চালানো হয়।’
দশম সাক্ষী মো. রাব্বি হোসেন হলেন শহীদ আনাসের সহযোদ্ধা। আনাসের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘একজনের হাতে গুলি লাগে, আমরা গুলি বের করার চেষ্টা করি এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ করি, ওই সময় পুলিশ
নবাবকাটরা গলির মুখে বসে টার্গেট করে আনাসকে গুলি করে।’ এই সাক্ষী সকল আসামির নাম বলেছেন।
মো. টিপু সুলতান ১২তম সাক্ষী। তিনি আদালতে বলেন, ‘পুলিশ গুলি করতে করতে বোরহানউদ্দিন কলেজের গেট পর্যন্ত চলে আসে, পুলিশ আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে, সেই গুলিটি আমার পাশে থাকা ইসমামুলের পেটে লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়।’
১৩তম সাক্ষী মো. মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা চানখারপুলের দিকে এগোচ্ছিলাম, তখন পুলিশ গুলি করতে করতে আমাদের দিকে আসে। পুলিশের গুলিতে আমার সামনে থাকা জুনায়েদ নামে একজন আন্দোলনকারী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। সেদিন বিকালে জানতে পারি, গুলিবিদ্ধ জুনায়েদ শহীদ হন।’
অপর একজন সাক্ষী মো. সৌরভ আহমেদ, তিনি ১৪তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, ‘আনুমানিক ১২টা-১টার সময় আমার পাশে একজন আন্দোলনকারী বুকের বামপার্শ্বে গুলিবিদ্ধ হয়। আমি ও অন্য একজন আন্দোলনকারী তাকে মিডফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। তার নাম আনাস।’ এই সাক্ষী কোনো আসামির নাম উল্লেখ করেননি।
১৫তম সাক্ষী অজয় ঘোষ এপিবিএনের কনস্টেবল। তিনি সকল আসামির সম্পৃক্ততার বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি জানান, এডিসি আখতারুল তার রাইফেলসহ গুলি কেড়ে নিয়ে কনস্টেবল সুজনকে দেন।
১৬তম সাক্ষী আব্দুর রহমান এপিবিএনের নায়েক। তার নেতৃত্বে এক প্লাটুন এপিবিএন পুলিশ সদস্য শাহবাগ থানায় উপস্থিত হন। পরবর্তীতে এডিসি আখতারুলের নেতৃত্বে চানখারপুলে যায়। এই সাক্ষী সকল আসামির সম্পৃক্ততার বিস্তারিত তথ্য দেন।
১৭তম সাক্ষী আসিফ খান সকল আসামির সম্পৃক্ততার বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তার দাবি, সুজন ও ইমাজ গুলি করেন। নাসিরুল রাইফেলে গুলি লোড করেন। আব্দুস সালাম ২০তম সাক্ষী, তিনি শহীদ ইয়াকুবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রত্যক্ষদর্শী। পরে তার ভিডিও করেন।


