আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গরুর বাজারে বাড়ছে ক্রেতাদের আগ্রহ। এর মধ্যে জেলার সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে একটি বিশাল আকৃতির গরু ‘নবাব’-কে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ কৌতূহল।
স্থানীয়দের দাবি, এটি এই অঞ্চলের অন্যতম বড় গরু, যা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ। তাদের ধারণা, গরুটির ওজন প্রায় ২৫ মণ। খামারি আক্তার হোসেন গরুটির দাম হাঁকছেন আট লাখ টাকা।
সদর উপজেলার মহানন্দা নদীর কোলঘেঁষা একটি খামারে প্রায় তিন বছর ধরে দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরুটি লালন-পালন করেছেন আক্তার হোসেন। নিজের গাভীর বাছুর ‘নবাব’ ছোটবেলা থেকেই বিশেষ যত্নে বড় হয়েছে, যা স্থানীয় বাজারে এখন তাকে আলাদা করে তুলেছে।
খামারি জানান, গরুটির প্রধান খাদ্য মহানন্দা নদীর চরের তাজা ঘাস। পাশাপাশি প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি দানাদার খাবার হিসেবে গম, ভুট্টা, ছোলা ও ভুসি দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য নির্ভর এই পদ্ধতিকে খামারি তার সফলতার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন।
তবে এই যত্নের পেছনে রয়েছে বাড়তি খরচের চাপ। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে প্রতিদিন গরুটির পেছনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। তিনি জানান, এই খরচ চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তবুও লাভের আশায় তিনি গরুটিকে লালন-পালন করে যাচ্ছেন।
কোরবানির বাজার সামনে রেখে গরুটির শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও তার পরিবার।
খামারি আক্তার হোসেন বলেন, ‘এই গরুটি আমার খামারের গর্ব। ছোট থেকে নিজের সন্তানের মতো করে বড় করেছি। প্রতিদিন অনেক যত্ন নিতে হয়। আমি এর দাম চাচ্ছি প্রায় আট লাখ টাকা।’
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে গবাদিপশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, জেলায় বড় আকারের ফ্রিজিয়ান জাতের গরু উৎপাদনে খামারিরা এগিয়ে আসছেন। ‘নবাব’ তার একটি উদাহরণ। উন্নত প্রজনন ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এ ধরনের গরু উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বড় আকারের গরুর চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে খাদ্য ব্যয়, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তবুও সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই খাত গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।


