চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাইমচর উপজেলার হরিনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি কুসুম দেওয়ান এসব তথ্য জানান।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য জানান, নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে দুটি লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। কোস্ট গার্ড চারজনের মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
নিহতরা হলেন- ভোলা লালমোহন উপজেলার কাজিরাবাদ এলাকার সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল গণি (৩৮), একই উপজেলার একই গ্রামের মো. কালু খাঁর ছেলে মো. সাজু (৪৫), কচুখালি গজারিয়া গ্রামের মিলনের স্ত্রী রীনা (৩৫) ও চরফ্যাশন উপজেলার আহিমেদপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে মো. হানিফ (৬০)
ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চের যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা অভিমুখী এম.ভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি রাত ২টার পর হাইমচর নৌ এলাকা অতিক্রম করছিল। একই সময়ে তারেক রহমানের সংবর্ধনা ঘিরে ঢাকা থেকে বিএনপির সমর্থকদের নিয়ে যাচ্ছিল বরিশালগামী এম.ভি অ্যাডভেঞ্চার-৯।
এসময় নদীতে ঘন কুয়াশা থাকায় দিক নির্ণয় করতে না পেরে অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি জাকির সম্রাট-৩ কে সজোরে ধাক্কা দেয়।
যাত্রীরা জানান, কুয়াশার ভেতরেও অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি বেপরোয়া গতিতে ছিল। সংঘর্ষের পর জাকির সম্রাট লঞ্চে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত জাকির সম্রাট-৩ এ থাকা যাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে ভোলা থেকে ঢাকাগামী এম.ভি কর্ণফুলী-৯ নামের একটি লঞ্চ। তারা অনেক যাত্রীকে উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
অন্যদিকে, নিহতদের মরদেহ এবং গুরুতর আহত অর্ধশতাধিক যাত্রীকে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা করে।
সদরঘাট থানা নৌ পুলিশের ডিউটি অফিসার জানান, এ ঘটনায় অ্যাডভেঞ্চার ৯ লঞ্চটিকে ঝালকাঠি ঘাট থেকে জব্দ করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লঞ্চের চার স্টাফকে আটক করা হয়েছে।
দুই লঞ্চের সংঘর্ষের পর নৌপথে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


