সাত দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয়দিনের মতো অনশনে বসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নয় শিক্ষার্থী। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে প্রক্টর অফিসের সামনে অনশনে বসেন তারা, বৃহস্পতিবারও অনশন চলছিল।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো-গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহতদের তালিকা প্রকাশ ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা; হামলাকারীদের বিচার; অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত ভ্রাম্যমাণ আবাসন ব্যবস্থা; আবাসনচ্যুতদের মালামাল উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ; চিহ্নিত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা ও নিরপরাধ এলাকাবাসীদের হয়রানি বন্ধ; দ্বন্দ্ব নিরসনে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন ও প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠক এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নিরাপদ ক্যাম্পাসের রোডম্যাপ প্রকাশ ও বাস্তবায়ন।
৩০ আগস্ট স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগও দাবি করেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা।
‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ এই ব্যানারে অনশনরতদের মধ্যে রয়েছেন-বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা, একই বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র, সঙ্গীত বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক ঈশা দে, স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাংগঠনিক সম্পাদক রাম্রা সাইন মারমা, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ এবং দপ্তর সম্পাদক নাঈম শাহজান এবং মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক পরিবেশ ঠিক রাখার চেষ্টা করছি। অথচ তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। যারা এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করবে, তারা সমর্থন পাবে না।’


