চট্টগ্রামের চন্দনপুরা এলাকায় পুলিশের পাহারায় থাকার পরেও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাসা লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলির ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।
তবে ভুক্তভোগী মামলা না করলেও জড়িতদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নগরের চন্দনপুরায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় সেহরি শেষে ফজরের নামাজ আদায় করে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় বাসার পেছনের দিক দিয়ে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। তারা প্রায় ছয় থেকে সাত রাউন্ড গুলি চালায়।
সিসিটিভি ফুটেজে চারজন মুখোশধারীকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বাসার দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তাদের মধ্যে একজনের হাতে দুটি পিস্তল, একজনের হাতে সাবমেশিনগান, একজনের হাতে চায়নিজ রাইফেল এবং আরেকজনের হাতে শটগান ছিল।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ বলেন, ‘ভুক্তভোগী এখনো মামলা দায়ের করেননি। তবে আমরা ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে পেরেছি। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’
তিনি জানান, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি একই ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হামলায় ব্যবহৃত একটি গাড়িও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারদের একজন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ওসি বাবুল আজাদ বলেন, গ্রেপ্তারদের তথ্য প্রকাশ করা হলে সন্ত্রাসীরা সতর্ক হয়ে যেতে পারে। তাই এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।
তার দাবি, ‘বড় সাজ্জাদ’ বাহিনী এ হামলার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার পর থেকে এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই মুজিবুর রহমান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘পুলিশ নিরাপত্তা দেওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বারবার তার বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটছে, তা বুঝতে পারছি না।’
পুলিশের পক্ষ থেকে কী বলা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে কাউকে কিছু বলছি না। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখছি।’


