চট্টগ্রামে পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) জন্য তৈরি করা প্রায় ৩১ হাজার ৮৭৫ পিস ইউনিফর্ম বা সামরিক ধাঁচের পোশাক আদালতের নির্দেশে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মনসুরাবাদের মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ের সামনের খোলা মাঠে এসব পোশাক পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গত বছরের মে মাসে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী ও পাহাড়তলী থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে এসব পোশাক জব্দ করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার ‘রিংবো অ্যাপারেলস’ নামের একটি পোশাক কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০ পিস এবং পরবর্তী অভিযানে আরও প্রায় ১১ হাজার পিস ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠনের জন্য বিপুল পরিমাণ এই পোশাক তৈরির ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।
পোশাক ধ্বংস করার সময় উপস্থিত ছিলেন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি এবং মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিপুল পরিমাণ পোশাক হওয়ায় আগুন দিয়ে সেগুলো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।
সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় নগরের বায়েজিদ ও পাহাড়তলী থানায় দুটি মামলা চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, জব্দ করা পোশাকগুলো দেখতে অনেকটা ‘কমব্যাট ড্রেস’-এর মতো। এগুলো কাদের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
তবে মামলার নথিতে এগুলো কেএনএফের পোশাক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশি তদন্ত ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, এই পোশাক তৈরির পেছনে বড় একটি চক্র জড়িত। গোলাম আজম ও নিয়া হায়দার নামের দুই ব্যক্তি মংলাসীন মারমা ওরফে মং নামে একজনের কাছ থেকে দুই কোটি টাকার চুক্তিতে এসব পোশাক তৈরির কার্যাদেশ (অর্ডার) পেয়েছিলেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারখানার মালিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত কেএনএফ গত কয়েক বছর ধরে পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংক ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, নাশকতামূলক কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহারের জন্যই অত্যন্ত গোপনে চট্টগ্রামের ওই পোশাক কারখানায় ইউনিফর্মগুলো তৈরি করা হচ্ছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই চক্রের সঙ্গে পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


