চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকার দোস্ত বিল্ডিংয়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও তালা দেওয়ার পরদিন জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কার্যালয়টি দখল করা হয়নি।
বুধবার বিকালে নগরের বিপ্লব উদ্যানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলে একথা জানিয়েছেন এনসিপির নগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক আরিফ মঈনুদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দোস্ত মোহাম্মদ ভবনে গিয়েছিলাম আওয়ামী লীগের সেটআপ ভাঙচুর করতে। খবর পাই সেখানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চলছে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি ছাত্রজনতার যে ক্ষোভ, সেই ক্ষোভ থেকেই তারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ম্যুরাল ভাঙচুর করে। কিন্তু আমরা অফিস দখল করিনি, সেই উদ্দেশ্যও আমাদের ছিল না।’
ভবনটি যে পরিত্যক্ত সম্পত্তি তা জানা ছিল না উল্লেখ করে আরিফ বলেন, ‘মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর জানতে পারি এটি নিয়ে তিন পক্ষ মালিকানা দাবি করছে। জেলা প্রশাসক, ১৯৭১ সালে এক বিহারী ব্যক্তি এবং ১৯৯১ সালে জেলা প্রশাসকের দেওয়া এক লিজধারী- এ তিনজনের মধ্যে মালিকানা বিরোধ রয়েছে।’
ভবনটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে কোতোয়ালী থানাকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি এনসিপির এই নেতার। তিনি বলেন, ‘থানার ওসিকে তথ্যপ্রমাণসহ পাঠানোর পরও তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসহযোগিতার কারণে আমাদের একজন নেতাকে ছুরিকাঘাত করে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে বলেও এসময় অভিযোগ করেন এনসিপির নেতারা।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে এনসিপির চট্টগ্রাম নগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিনের নেতৃত্বে দোস্ত বিল্ডিংয়ে অবস্থিত উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও তালা দেওয়া হয়। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সাবেক নেতা ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল তরুণ কার্যালয়ের দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করছেন। সেখানে আরিফ মঈনুদ্দিনসহ এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদেরও দেখা গেছে।
দোস্ত বিল্ডিংয়ে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময়ও এই ভবনে এক দফা ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। তারপর থেকে ভবনটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।


