দেশজুড়ে অনুভূত হচ্ছে তীব্র শীত, তার সঙ্গে রয়েছে ঘন কুয়াশা। তবে শিগগিরই এ পরিস্থিতির বদল হচ্ছে না। আগামী কয়েকদিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এদিনও কুয়াশার কারণে যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রোববার থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
সোমবার ও মঙ্গলবার একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এ সময়ও সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এদিকে, উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকলেও সূর্য ওঠার পর রোদের দেখা মিলছে।
সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার।
তেঁতুলিয়ার শালবাহান এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ছে। সকালে ঘর থেকে বের হওয়া খুব কষ্টসাধ্য। কাজের জন্য বের হতে হলেও আগুন পোহাতে হয়। বয়স্ক আর শিশুদের নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছি।’
তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীতে পাথর উত্তোলনকারী শ্রমিক রবিউল হক বলেন, খোলা জায়গায় কাজ করতে হয়। ঠান্ডা আর কুয়াশার কারণে ঠিকমতো কাজ করা যাচ্ছে না। কাজ না করলে সংসার চলে না। তাই কষ্ট হলেও কাজে নামতে হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। বর্তমানে তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে বিরাজ করছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। একই দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি শীত মৌসুমে গত ১১ ডিসেম্বর তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সেদিন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অপরদিকে, যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
যশোর বিমানবাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে, বৃহস্পতিবার যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সবমিলিয়ে চলতি মৌসুমে চারদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে।
তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি এবং গতির কারণে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।
শংকরপুর এলাকার নির্মাণশ্রমিক রিপন মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকে কাজের খোঁজে বের হয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো কাজ পাইনি। ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে থাকাই কষ্টকর।’
বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, এত শীতে বাইরে থাকা যায় না। তবু সংসারের তাগিদে বের হতে হয়। কাজও ঠিকমতো মিলছে না।
এ ছাড়া মাগুরায় শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ভোররাত থেকেই চারদিক ঢেকে যাচ্ছে ধূসর কুয়াশার চাদরে। দুপুর গড়িয়ে গেলেও সূর্যের দেখা মিলছে না।
শহরের দোয়ারপাড় এলাকার রিকশাচালক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘তীব্র শীতে গাড়ি নিয়ে বের হতে মন চায় না। কিন্তু পরিবার-পরিজনের কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হয়। সকালে যাত্রী পাওয়া যায় না। তাই আয়ও কমে গেছে। এই শীতে সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
একই কথা জানান নির্মাণশ্রমিক বিপ্লব হোসেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। শীতের কারণে শ্রমিকরা কাজে আসতে চায় না। কিন্তু অভাবের তাড়নায় আমাদের কাজ করতেই হয়।’
এদিকে, তীব্র শীতের কারণে লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে বাড়ছে ভিড়। ফুটপাতে বসা শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতেও বাড়ছে নানা বয়সী মানুষের চাপ।
তবে, তীব্র শীতের কারণে বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা। মাগুরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।


