মানবিক সহায়তা নিয়ে গাজার পথে রওনা হওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র কয়েকটি নৌযান আটকে দেওয়ায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ইতালি, তুরস্ক, স্পেন, জার্মানির মতো দেশগুলোয় পথে নেমেছেন হাজারো মানুষ।
আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, আল জাজিরা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব বিক্ষোভের কথা।
তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে সমবেত হয়ে ইসরায়েল বিরোধী স্লোগান দেন শত শত মানুষ। এসময় তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রার্থনা করে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে নিরাপদে গাজা উপকূলে পৌঁছে দিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও আগ্রাসনকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপেরও আহ্বান জানানা বিক্ষুব্ধরা।
একই ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও। ইতালির রোমে শিক্ষার্থী ও শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা প্রধান রেলস্টেশনের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভের মুখে রোমের মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
ইতালির সবচেয়ে বড় দুটি শ্রমিক সংগঠন ঘোষণা দিয়েছে, আগামী শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সারাদেশে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হবে। সেই সঙ্গে ইতালির কোনো বন্দর থেকে ইসরায়েলি পন্য ওঠানামা করা হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তারা।

স্পেনের বার্সেলোনা, জার্মানির বার্লিন, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ও গ্রিসের এথেন্সেও গাজার পক্ষে রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনপন্থী জনতা। গ্লোবাল সুমুদে ইসরায়েলি হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শুক্রবার ‘বড় সমাবেশের’ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন শহরেও গাজায় ‘গণহত্যা’, অবৈধ অবরোধ ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়ায় ইসরায়েল বিরোধী আন্দোলনে নামেন বহু মানুষ। তীব্র বিক্ষোভ হয় মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি, কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটা, উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিও ও আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনোস আইরেসে।
শত শত মানুষ সমবেত হয়ে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আটককৃত কর্মীদের মুক্তি এবং গাজায় সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানান। এসব বিক্ষোভে ‘গাজায় গণহত্যা’ সংগঠনের অপরাধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিচার দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।

গত বুধবার রাতে ফ্লোটিরার নেতৃত্ব দেওয়া জাহাজ ‘আলমা’ আটক করে সমুদ্রযাত্রার মূল পরিকল্পনাকারী সুইডিশ মানবাধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে হেফাজতে নেয় ইসরায়েলি নৌবাহিনী। এরপর একে একে অন্তত ১৩টি জাহাজ গাজা উপকূলে পৌঁছানোর আগে থামিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা। একটি নৌযানকে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর জাহাজ ধাক্কা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
ফ্লোটিলার মুখপাত্র জানান, গাজায় জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
গত আগস্টের শেষদিকে ইউরোপ থেকে শুরু হওয়া এই সমুদ্রযাত্রায় যোগ দেন মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার মানুষ। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আয়োজক আন্তর্জাতিক কমিটি ফর ব্রেকিং দ্য সিজ অন গাজা (আইসিবিএসজি) জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তাদের নৌবহর আটকে দিয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি টহল নৌকা বহরের দিকে এগিয়ে গিয়ে দিক পরিবর্তনের নির্দেশ দিচ্ছে। আটক হওয়ার পরপরই মেক্সিকান স্বেচ্ছাসেবী আরলিন মেদ্রানো এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধভাবে আটক হয়েছি।’
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, ফ্লোটিলা নিরাপদে ইসরায়েলের বন্দরে ভেড়ানো হয়েছে। কর্মীদের অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইহুদীদের আসন্ন ধর্মীয় উৎসবের পর নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।


