গ্যাস সংকটের কারণে টানা ১৬২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন। এতে প্রতিদিন এক হাজার ২০০ মেট্রিকটন হিসেবে প্রায় দুই লাখ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। বাজারমূল্যে এর পরিমাণ প্রায় ৮শ কোটি টাকা। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় লাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি বেতন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে। এ অবস্থায় রোববার সকালে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ ও ‘একই কর্পোরেশনে একই স্কেল বাস্তবায়ন’ দাবিতে কারখানার মূল ফটকে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গেট মিটিং করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. বজলুর রশীদ। বক্তব্য দেন ইউনিয়নের সিনিয়র সহসভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু কাউছার, বাংলাদেশ কেমিক্যালস ওয়ার্কার ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ এবং শ্রমিক নেতা মনিরুজ্জামান পাভেলসহ অনেকে।
সমাবেশ শেষে শ্রমিক-কর্মচারীরা মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে মহাব্যবস্থাপকের (প্রশাসন) মাধ্যমে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দেন।
ইউনিয়ন নেতাদের অভিযোগ, একই কর্পোরেশনের আওতায় থাকা বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা ভিন্ন ভিন্ন বেতন স্কেলে আছেন, যা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য তৈরি করছে। পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কাউছার বলেন, ‘আমরা বারবার গ্যাস সরবরাহ ও বেতন স্কেলের বিষয়ে ন্যায্য দাবির কথা জানিয়েছি। সমাধান না হওয়ায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে দাবির ন্যায্যতা তুলে ধরছি।’
ইউনিয়নের সভাপতি মো. বজলুর রশীদ সতর্ক করে বলেন, ‘দ্রুত গ্যাস সরবরাহ ও বেতন স্কেলের বিষয়টি সমাধান না হলে আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।’
বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানি আশুগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জাহিদ রেজা জানান, বিসিআইসির সঙ্গে পেট্রোবাংলার আলোচনা হয়েছে। এতে চারটি সার কারখানায় গ্যাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার নাথ বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে মার্চ থেকে উৎপাদন বন্ধ আছে। এতে প্রতিদিন ১২শ টন ইউরিয়া উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকলে যন্ত্রাংশে মরিচা পড়ে ক্ষতির আশঙ্কা আছে। পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। আশা করছি সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাবে।’


