গোপালগঞ্জে শহর জুড়ে তাণ্ডবের চিহ্ন, আটক ২০  

গোপালগঞ্জে শহর জুড়ে তাণ্ডবের চিহ্ন, আটক ২০  
গোপালগঞ্জ শহর জুড়ে এখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে তাণ্ডবের চিহ্ন। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস
Advertisement
Advertisement

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ অন্তত ২০ জনকে আটক করেছে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এনসিপির জনসভায় হামলা, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ইউএনও’র গাড়ির বহরে হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি আরও জানান, আটককৃতদের বৃহস্পতিবার রাতে যৌথ বাহিনী পুলিশের কাছে হস্তান্তরিত করেছে। কারফিউ জারির পর বর্তমানে শহরের পরিবেশ শান্ত এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জের পৌর পার্কে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার সূত্রপাত। সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই সভাস্থলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা একের পর এক হামলা চালাতে থাকে। এ সময় তারা সভাস্থলের প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

গোপালগঞ্জ শহর জুড়ে এখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে তাণ্ডবের চিহ্ন। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস

পরে এনসিপির সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষ হওয়ার সাথে সাথে দুই থেকে তিনশ’ লাঠিসোটা নিয়ে এনসিপি নেতাদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় যৌথ বাহিনীর নিরাপত্তায় নেতারা হামলার কবল থেকে রক্ষা পান।

আরও পড়ুন

এ সময় সংঘর্ষ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহিংসতায় ৪ জন নিহত এবং অন্তত ৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া আহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন শহরে ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করে। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই কারফিউ কার্যকর থাকবে।

এদিকে, কারফিউয়ের ভেতরে বৃহস্পতিবার দেখা গেছে পুরো জেলা সদরে থমথমে পরিস্থিতি। সকাল থেকে রাস্তায় সাধারণ মানুষ বের না হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমিত পরিসরে মানুষ বের হচ্ছেন। রাস্তায় ব্যাটারি চালিত অল্প কিছু রিকশাও চলছে।

গোপালগঞ্জ শহর জুড়ে এখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে তাণ্ডবের চিহ্ন। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস

শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পড়ে আছে ইটপাটকেল, বাঁশসহ যান চলাচলে নানা প্রতিবন্ধক সামগ্রী। সড়কের পাশে থাকা গাছ কেটে রাস্তার ওপর ফেলেও যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে দেখা গেছে বেশ কিছু স্থানে। আবার সড়ক– মহাসড়কে থাকা বিভিন্ন তোরণ ভেঙে ফেলায় রাস্তার ওপর সেগুলো যান চলাচলে সৃষ্টি করছে প্রতিবন্ধকতা।

শহর জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। ঘোনাপাড়া, এলজিইডি মোড়, গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল, কোট চত্বর, লঞ্চঘাট, কাঁচাবাজার ও পুলিশ লাইনস মোড় ঘুরে কোথাও কোনো চেকপোস্ট বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেখা যায়নি।

তবে গোপালগঞ্জ পৌরসভার সামনে কয়েকজন গ্রাম– পুলিশের সদস্য ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

এদিকে, ওই হামলার ঘটনায় এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে জঙ্গি কায়দায়’ হামলা চালিয়েছে। তাদের আরো অভিযোগ, সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad