মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিডং এলাকায় আরাকান আর্মি (এএ) ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-র মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক আরসা সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার পর উখিয়ার ১২ নম্বর বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেন তিনি।
তবে এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী।
ক্যাম্পের বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া-বুচিডং সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরসা সদস্য মো. এনামুল হাসান (২৬) গুরুতর আহত হন। সে অবস্থায় তিনি উখিয়ার ১২ নম্বর বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-৪ ব্লকে আশ্রয় নেন। তার এফসিএন নম্বর ১৯৬৫৩৩।
বর্তমানে তিনি ক্যাম্পের ভেতরে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তার সঙ্গে থাকা আজিজুল হক (৩২) নামের আরেক আরসা সদস্য পালানোর সময় নাফ নদীতে নিখোঁজ হন বলেও স্থানীয়দের জানিয়েছেন তিনি।
ক্যাম্প-১২-তে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানি। আহত রোহিঙ্গা ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে ক্যাম্পের বাসিন্দা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন জানিয়েছেন, মিয়ানমারের বুচিডং অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে আরাকান আর্মি (এএ) এবং আরসা-র মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। এনামুল সেই সংঘর্ষে অংশ নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৭ সালের রোহিঙ্গা গণহত্যার পর থেকে মিয়ানমারে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরসা এবং স্থানীয় অন্যান্য বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়ছে সীমান্ত লাগোয়ো বাংলাদেশ অংশে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সীমান্ত অতিক্রম করে যাতে কোনো সশস্ত্র ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।


