ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ থাকছে না কানাডা। প্রাথমিকভাবে বোর্ডে যোগ দিতে অটোয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ট্রাম্পের নির্দেশে তা প্রত্যাহার করেছে ওয়াশিংটন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির প্রতি এক পোস্টে বলেন, ‘অনুগ্রহ করে এই চিঠিকে নোটিশ হিসেবে গণ্য করুন-বোর্ড অব পিসে কানাডার যোগদানের বিষয়ে দেওয়া আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
তবে ঠিক কি কারণে আমন্ত্রণ জানানোর পরও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত কানাডাকে বোর্ড অব পিসে যুক্ত করতে ট্রাম্প অসম্মতি জানালেন তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্নির দপ্তর থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অবশ্য তিনি গত সপ্তাহে নীতিগতভাবে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থায় একটি সম্ভাব্য ‘ফাটল’ বিষয়ে মার্ক কার্নি সতর্ক করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রায় একই সময়ে অটোয়া জানায়, ট্রাম্পের নতুন এই সংস্থায় যোগ দিতে তারা কোনো অর্থ জমা দেবে না।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবারই ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসে যোগ না দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্য। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে উদ্বেগের কারণে রাশিয়ার পাশাপাশি তারাও আপাতত এই বোর্ডে অংশ নিচ্ছে না।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০টি দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং প্রায় ৩৫টি দেশ এরইমধ্যে সনদে সই করেছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাৎ, বাহরাইন, আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো, ভিয়েতনামসহ আরও অনেকে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বোর্ড অব পিসে চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রাম্পের হাতে সর্বাত্মক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকায় এবং যুক্তরাষ্ট্র একে আন্তর্জাতিক সংঘাত সমাধানের জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে তুলে ধরায় অনেক দেশ ও নেতারা সংস্থায় যোগ দিতে সংকোচ বোধ করছেন।
প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস মূলত গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান দুই বছরের যুদ্ধ অবসানে সহায়তা করা এবং যুদ্ধোত্তর গাজা পুনর্গঠন তদারকির জন্য গঠিত হচ্ছে। তবে সংস্থাটির প্রস্তাবিত সনদে গাজা কিংবা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কোনো উল্লেখ নেই। অনেকেই মনে করছেন সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণাধীন এবং ‘জাতিসংঘের’ মতো সংস্থাকে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে।


