সজীব ওয়াজেদ জয় বিদেশি নাগরিক হলেও বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিচার হতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে, ব্যক্তি যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে, বাংলাদেশ রিলেটেড কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত থাকলে তার বিচার করা যাবে।’
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে জয় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। এখন তাকে বিচারের আওতায় আনা যাবে কিনা।
জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘জয় বাংলাদেশে কখনো আসেননি, তা তো নয়। তিনি বাংলাদেশের সরকারের নিযুক্ত একজন বিশেষ উপদেষ্টা ছিলেন বা প্রজাতন্ত্রের একজন বেতনভুক্ত কর্মচারি ছিলেন। তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার পুত্র, আওয়ামী লীগের নেতা; বহুভাবে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
জয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা ছিলেন উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আইসিটি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের গণহত্যাকে আড়াল করতে ইন্টারনেট বন্ধ করে সারাদেশে গণহত্যাকে ছড়িয়ে দিয়েছিল, গোটা দুনিয়ার কাছ থেকে এই গণহত্যার তথ্য লুকানোর চেষ্টা করেছিল সেটার মাস্টারমাইন্ড কিন্তু জয়। বাংলাদেশে থেকে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেছেন জুনায়েদ আহমেদ পলক, সুতরাং তার বিচার আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের আদালতে হবে এটা আইনে খুব সুস্পষ্টভাবে বলা আছে।’
ঘটনার সময় জয় দেশে ছিলেন না, সাংবাদিকরা বিষয়টি উল্লেখ করলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ঘটনার সময় তার দেশে থাকা জরুরি না। ইন্টারনেট বন্ধের হুকুম দেওয়া, মানুষকে হত্যার হুমকি দেওয়া, এটা দেশের বাইরে থেকেও করা যাবে।’
সব অপরাধের ‘অকাট্য ডকুমেন্ট’ আদালতে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন সাক্ষ্যগুলো আদালতে আসতে থাকবে, তখন বিষয়টি এক এক করে পরিষ্কার হবে। সাক্ষ্য–প্রমাণ সবকিছু আছে বলেই, নিশ্চিত হয়েই, প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে।’


