ফিলিস্তিনের গাজা দখলের অভিযান বন্ধ রাখতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফকে নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলার পরই ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতারা দেশটির সেনাবাহিনীকে এই নির্দেশ দেন বলে টাইমস অব ইসরায়েলের এক খবরে বলা হয়েছে।
ইসরায়েলের আর্মি রেডিও জানিয়েছে, ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে রাতভর আলোচনার পর এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনায় অভিযানকে “ন্যূনতম মাত্রায়” সীমিত রাখতে বলা হয়েছে, যেখানে মাটিতে থাকা সেনারা শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যম দি কান জানিয়েছে, ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে শিগগিরই আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজা যুদ্ধ শেষ ও জিম্মিদের মুক্ত করতে হামাস ও ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ ঘোষণা করেছে, চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আলোকে শীর্ষ জেনারেলদের সঙ্গে ‘একটি বিশেষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন সভা’ করেছেন।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশে’ জামির ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘জিম্মিদের মুক্ত করতে ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ’ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। যদিও এই নির্দেশনার বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
চিফ অব স্টাফ আরও জোর দিয়ে বিবৃতিতে বলেছেন, ‘পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় বাহিনীকে আরও বেশি প্রস্তুত ও সতর্ক থাকতে হবে। সেই সঙ্গে যেকোনো হুমকি দ্রুত মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা মাথায় রাখতে হবে।’
গত মঙ্গলবার শান্তি চুক্তি মেনে নিতে হামাসকে চারদিনের আল্টিমেটাম দেন ট্রাম্প। সময় শেষ হওয়ার আগে শুক্রবার রাতে হামাস তার ‘গাজা শান্তি পরিকল্পনার’ কিছু অংশ মেনে নিয়ে বাকি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তাব দেয়।
ট্রাম্পের প্রস্তাবের মধ্যে আছে গাজায় স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার, ইসরায়েলি জিম্মি ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি, ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম, অন্তর্বর্তী শাসন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণসহ আঞ্চলিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়।
হামাস তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর পরপরই ট্রাম্প ইসরায়েলকে ‘অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে’ বলেন। হামাস এখন ‘স্থায়ী শান্তিতে’ প্রস্তুত বলে মনে করেন ট্রাম্প।
সামাজিকমাধ্যমের এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, যাতে আমরা জিম্মিদের নিরাপদে ও দ্রুত বের করতে পারি! এখন এটা খুব বিপজ্জনক। আমরা ইতোমধ্যে বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। এটি শুধু গাজার বিষয় নয়, বরং বহুদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রত্যাশিত শান্তির বিষয়।’


