ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে দলগত হামলা (গ্যাং) ও হত্যা বন্ধ না হলে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে নিষ্ক্রিয় করতে অভিযান পরিচালনার অনুমতি দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী একে অন্যের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজায় শান্তি ফেরাতে প্রয়োজনে গাজায় ঢুকে হামাসকে নিষ্ক্রিয় করা হবে।’
বার্তা সংস্থা এপি’র খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, হামাসবিরোধী এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবেন না। অর্থাৎ হামাসকে নিরস্ত্র ও নিষ্ক্রিয় করার ভার পড়বে গাজার অন্তর্বর্তী সরকার ও বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর।
পরে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ভেঙে হামাস ও তাদের সমর্থক কিছু গ্যাং যদি গাজায় মানুষ হত্যা চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের নির্মূল করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র নিজে এই কাজটি করবে না। তবে আমাদের “খুব কাছের” কোনো সহযোগী দেশ তাদের তত্ত্বাবধানে কাজটি সহজেই পালন করবে।’
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্পের হামাসের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার মানসিকতা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত মিলেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরপরই তিনি গাজার ছোট ছোট গ্যাংগুলোর মধ্যে সহিংসতা বন্ধের দায়িত্ব হামাসের কাঁধে তুলে দিয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
বরং সে সময় তিনি হামাসকে সমর্থন করে বলেছিলেন, ‘তারা গাজার শাসনভার বহির্বিশ্বের হাতে তুলে দিতে চাইছে না। কাজেই গাজায় শান্তি ফেরাতে তাদেরই কাজ করতে হবে। কিছু ভয়ংকর গ্যাং নির্মূল করা হয়েছে। তবে হামাসকে অবশ্যই নিরস্ত্র হতে হবে। তাদের হাতে গাজা ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’

এদিকে গাজার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও মানবিক সহায়তা বিতরণে ভূমিকা রাখা সংস্থার কর্মীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় হামাস ও স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা বেড়ে চলেছে। এই গোষ্ঠীগুলো মানবিক সহায়তা লুটপাটে জড়িত।
ফিলিস্তিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এই গ্যাংগুলো ইসরায়েলের পক্ষ হয়ে গাজায় সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। হামাস ও বিভিন্ন গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ জানিয়ে তারা ঘোষণা দেন, সরাসরি রক্তক্ষয়ে জড়িত নয় এমন গ্যাং সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হবে।
এর আগে গত জুনে মাসে ইসরায়েলি কিছু কর্মকর্তা গাজায় কিছু গ্যাংকে অস্ত্র সরবরাহের কথা স্বীকার করে নেয়। এরপর গাজায় হামাসের সশস্ত্র নজরদারি আরও বেড়ে যায়। একই সময়ে গাজার একজন প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সালেহ আলজাফারাওকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গ্যাং-সম্পৃক্ততার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করেছে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও ওই হত্যাকাণ্ডকে গ্যাং-সহিংসতা উল্লেখ করে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘সন্দেহভাজন ইসরায়েলি সহযোগীদের হত্যা “ভয়াবহ অপরাধ” এবং এটি মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত। কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে প্রাণনাশের ঘটনা গাজাবাসীর জীবন আরও বিষিয়ে তুলবে।’


