গাইবান্ধায় চার দিন ধরে অন্ধকারে ১০ গ্রাম

গাইবান্ধায় চার দিন ধরে অন্ধকারে ১০ গ্রাম
গাইবান্ধায় ঝড়ে উপড়ে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি ৪ দিনেও মেরামত হয় নি। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার চার দিন পরও তা স্বাভাবিক হয়নি। ফলে অন্ধকারে রয়েছে অন্তত ১০ গ্রামের বাসিন্দা।

গত সোমবার রাত আড়াইটার দিকে শুরু হয়ে ভোর ৪টা পর্যন্ত কালবৈশাখী ঝড়ে বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে যায়, ট্রান্সফরমার ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জানা গেছে, প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে পৌরশহরসহ উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, সোনারায়, বামনডাঙ্গা, বেলকা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। সেই সঙ্গে উপড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিও। ফলে পৌরসভাসহ অন্তত ২০ গ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে রাতেই পৌরশহর এবং পরদিন আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ গ্রামে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

ঝড়ে সুন্দরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পৌরসভাসহ পুরো উপজেলায় ২২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে । ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে ১০টি।

এ ছাড়া প্রায় ২০০ জায়গায় গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। প্রায় ২০০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খুঁটি হেলে গেছে অর্ধশতাধিক।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২১টি টিম দিন-রাত কাজ করে এখন পর্যন্ত মাত্র ১১টি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মেরামত কাজ শেষ করতে পেরেছে।

আরও পড়ুন

এদিকে চার দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক হারুন মিয়া বলেন, ‘কয়েকদিন থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় গাড়ি বের করতে পারছি না। সামনে ঈদ। কামাই না করলে বউ-বাচ্চা নিয়ে ক্যামনে ঈদ করমু।’

অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় পড়াশোনা নিয়ে বিপদে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে তাদের।

পরীক্ষার্থী স্নেহা আরোহী জানান, পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশুনা ব্যাহত হচ্ছে। মোমবাতি জ্বালিয়ে বেশিক্ষণ পড়া যাচ্ছে না।

সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. আব্দুল বারী বলেন, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় সব এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন করার জন্য ২১টি টিম কাজ করছে দিন-রাত। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগে সংযোগ চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সব গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad