গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া বড় কাজ: রাষ্ট্রপতি
সিলেট সিটি করপোরেশনের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া বড় কাজ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং তা রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা অবহেলায় নষ্ট করা যাবে না।

মঙ্গলবার বিকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। তবে সেই পথ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গত ১৫-১৬ বছরও দেশের ইতিহাসে একটি জটিল সময় ছিল। এ সময়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন করতে হয়েছে। অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের ত্যাগের বিনিময়ে এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ এসেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বহু ত্যাগ, রক্তপাত এবং সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

‘নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। এখন সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব হলো ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে আবার জাগিয়ে তোলা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা, বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হবে। সংসদকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে আলোচনা ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসব বিরোধের সমাধান করতে হবে।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। সংসদ যাতে যথাযথভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ে যে দ্বিমত রয়েছে, সেগুলোও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে সরকার ও বিরোধী দল থাকবে এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও থাকবে। তবে জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোতে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

সিলেটের মানুষের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে অতিথিপরায়ণতা ও শান্তিপ্রিয়তার পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার ঐতিহ্য রয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য সিলেটের মানুষ অতীতেও অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা কাজ করছেন। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বড় প্রকল্প সামনে এসেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি আশা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, সুফি সাধক শাহ আবদুল করিম, হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও সৈয়দ মুজতবা আলীর মতো সিলেটের কৃতি ব্যক্তিদের স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছসহ আরও অনেকে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর