গণঅভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনা, সালমান এফ রহমানসহ অনেকেই হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ঘটনায় ভিকটিম সাক্ষী আদহাম বিন আমিন।
তিনি বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছি তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান পরস্পর ফোনালাপে কারফিউ দিয়ে সবাইকে মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান, ওবায়দুল কাদেরসহ অনেকেই জড়িত।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাক্ষী আদহামের জবানবন্দি গ্রহণ করে। আগামী ১২ মার্চ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।
সাক্ষী জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় তিনি মিরপুর ন্যাশনাল বাংলা হাই স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। ১৬ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯ জুলাই দুপুরে বাসা থেকে বের হয়ে ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ওই সময় তাদের অপর পার্শ্বে পুলিশ, বিজিবি ও আওয়ামী লীগের লোকজন সশস্ত্র অবস্থায় ছিল। তারা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা প্রদান করে। তারা দফায় দফায় হামলা চালায়। ওপর থেকে হেলিকপ্টারেও গুলি বর্ষণ করে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপি নিখিল, বন্দুক আয়নাল, কচি, সাচ্চুর হাতে অস্ত্র ছিল। এ সময় একটি গুলি আদহামের বাম পায়ের হাঁটুর নিচ দিয়ে ঢুকে বের হয়ে ডান পায়ের হাঁটুর নিচ দিয়ে ঢুকে মাংস নিয়ে বের হয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি এখনো দাঁড়াতে পারেন না। স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারেন না।
আদহাম বিন আমিন বলেন, ‘আমাকে গুলি করে পঙ্গু যারা বানিয়েছে তাদের বিচার চাই। এ বছর আমার এসএসসি পরীক্ষা। আমি ঠিকমত পড়তে পারি না। আমার স্বপ্ন ছিল একজন সেনা কর্মকর্তা হওয়া। এই মামলায় সাক্ষী হওয়াতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে গুরুতর আঘাত করে।’


