গজারিয়ায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০

গজারিয়ায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল বের হলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন আহমেদের সমর্থনে মুক্তারপুর সেতুর ওপর অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার দুপুরে শুরু হওয়া এ অবরোধে প্রায় দুই ঘণ্টা মুন্সিগঞ্জ-ঢাকা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সেতুর দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সন্ধ্যার পর শহরে মহিউদ্দিন আহমেদের পক্ষে নেতাকর্মীরা বিশাল মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশও করেন।

ছবি: টাইমস

এদিকে এদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে গজারিয়ার জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মশাল মিছিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভাঙচুর করা হয় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হোসেনের গাড়ি।

আহতদের ছয়জন হলেন স্বাধীন (২৪), সাইদুল (২৫), দেলোয়ার হোসেন (৪৯), সাহিদা বেগম (৫৫), জাকির হোসেন (৪০) ও সিহাদ (১৭)।

আরও পড়ুন

তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ছবি: টাইমস

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। তবে একই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন। রতনের নাম ঘোষণার পর থেকেই মহিউদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

এদিন সন্ধ্যায় রতনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিল বের হলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যুবদল নেতা আলী হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা অফিসে হামলা করেছে, গাড়ি ভেঙেছে। বাড়িতেও হামলার চেষ্টা হয়েছে। আমাদের পক্ষের কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে আছে।’

ছবি: টাইমস

 

কামরুজ্জামান রতন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ঘটনাটি শুনেছি। অত্যন্ত দুঃখজনক। জড়িতদের বিচার চাই। নেতাকর্মীদের বলব দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ঐক্যবদ্ধ থাকতে।’

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজন আহতের তথ্য নিশ্চিত হয়েছি।’ সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় টহল চলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বর্তমানে অবস্থা শান্ত রয়েছে। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad